হংকংয়ে উধাও এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশ, চিনের হাতে কি গেল স্টেলথ প্রযুক্তি?

হংকংয়ে উধাও এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশ! আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কয়েকটি সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ হংকংয়ে পৌঁছনোর পর নিখোঁজ হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। আশঙ্কার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধবিমানের ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তির…

September 21, 2026
1 min read

হংকংয়ে উধাও এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশ!

আমেরিকার অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কয়েকটি সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ হংকংয়ে পৌঁছনোর পর নিখোঁজ হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র উদ্বেগ। আশঙ্কার কেন্দ্রে রয়েছে যুদ্ধবিমানের ‘স্টেলথ’ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত একটি ককপিট ক্যানোপিও। তবে যন্ত্রাংশগুলি চিনের হাতে পৌঁছে গিয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘পলিটিকো’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, গত জুনে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমেরিকায় মেরামতের জন্য পাঠানো হচ্ছিল এফ-৩৫-এর কিছু যন্ত্রাংশ। মাঝপথে সেই চালানের গতিপথ বদলে হংকংয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে যন্ত্রাংশগুলির হদিস পাওয়া যায়নি। কেন গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছিল, সেটিও এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এটি নিছক পরিবহণজনিত ভুল ছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে।

নিখোঁজ সরঞ্জামগুলির মধ্যে এফ-৩৫-এর ককপিট ক্যানোপি থাকার কথা জানা গিয়েছে। বিমানের ককপিটের উপরের স্বচ্ছ আবরণটি শুধু পাইলটকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নয়, এর সঙ্গে বিমানের স্টেলথ বৈশিষ্ট্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। ক্যানোপির উপর বিশেষ আবরণ রাডার তরঙ্গের প্রতিফলন কমাতে সাহায্য করে। ফলে এই যন্ত্রাংশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এফ-৩৫-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশের সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণ একটি বিশাল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অস্ট্রেলিয়াতেও এফ-৩৫ রক্ষণাবেক্ষণের পরিকাঠামো রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু জটিল যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য সেগুলি অন্য দেশে পাঠানোর প্রয়োজন হয়। এই চালানটিও সেই ব্যবস্থার অংশ ছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর মার্কিন কংগ্রেস এবং প্রতিরক্ষা দফতর বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এফ-৩৫ জয়েন্ট প্রোগ্রাম অফিসও জানিয়েছে, তারা একটি ‘শিপমেন্ট ইস্যু’ সম্পর্কে অবগত এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প-অংশীদারদের সঙ্গে মিলে যন্ত্রাংশ উদ্ধারের চেষ্টা, তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকানোর ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

তবে এই ঘটনার পিছনে চিনের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে—এমন কোনও প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। হংকংয়ে চালানটি নিখোঁজ হওয়ার কারণে চিনের হাতে সংবেদনশীল প্রযুক্তি পৌঁছতে পারে, এমন আশঙ্কাই মূলত তৈরি হয়েছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটিকে ‘চুরি’ বা প্রযুক্তি পাচার বলে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না।

এদিকে, এফ-৩৫-এর যন্ত্রাংশের হিসাব রাখা নিয়ে আমেরিকার সমস্যাও নতুন নয়। ২০২৩ সালের মার্কিন সরকারি সংস্থা GAO-র রিপোর্টে বলা হয়েছিল, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে একটি প্রধান ঠিকাদারের কাছে থাকা ১০ লক্ষেরও বেশি এফ-৩৫ স্পেয়ার পার্টস, যার মোট মূল্য ৮.৫ কোটি ডলারের বেশি, হারিয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যে ২ শতাংশেরও কম ক্ষতির ঘটনা ফোর্থ প্রোগ্রাম অফিস পর্যালোচনা করেছিল।

ফলে হংকংয়ের এই ঘটনা শুধু একটি নিখোঁজ চালানের তদন্ত নয়, এফ-৩৫-এর বিশাল আন্তর্জাতিক স্পেয়ার-পার্টস ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও নজরদারি কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আনছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *