কমিশনের দাবি—‘ভুল ও ভিত্তিহীন’
দেশ জুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ তুলেছেন, সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভোটারদের নাম কেটে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর দাবি, এটি আসলে ভোট চুরিরই আরেক রূপ। তবে নির্বাচন কমিশন রাহুলের এই বক্তব্য মানতে নারাজ। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ অভিযোগই ভুল ও ভিত্তিহীন।
রাহুলের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্নাটকের অলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনলাইনে একসঙ্গে প্রায় ৬০১৮টি নাম কেটে দেওয়ার আবেদন জমা পড়েছিল। সংখ্যাটা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় কমিশন খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখে। তদন্তে দেখা যায়, মাত্র ২৪টি আবেদন সত্যি, বাকি ৫৯৯৪টিই ভুয়ো। কমিশনের দাবি, সেই ভুয়ো আবেদনগুলিকে বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ভোটারদের নাম কেটে ফেলার কোনও চেষ্টাই সফল হয়নি।
রাহুল অবশ্য অন্য কথা বলছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত বহু বুথে এভাবে পরিকল্পিতভাবে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটা সাধারণ কর্মীদের কাজ নয়। সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে বুথের তালিকায় প্রথম নাম বেছে নেওয়া হচ্ছে, তারপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন জমা পড়ছে।” মঞ্চে স্ক্রিনে ফোন নম্বরও দেখান তিনি, যা থেকে ওটিপি ব্যবহার করে আবেদন জমা পড়েছে বলে দাবি তাঁর।
এ নিয়েই কমিশনের সঙ্গে রাহুলের টানাপোড়েন আরও বাড়ে। কমিশনের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির নাম কেটে দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হয় এবং তাঁর বক্তব্য শোনার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই অনলাইনে অচেনা কেউ ইচ্ছে মতো নাম বাদ দিতে পারবে না। কমিশন এটাও স্বীকার করেছে যে অলন্দে ভোটারদের নাম কেটে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়।
রাহুল আরও অভিযোগ করেন, কর্নাটকের সিআইডি নাকি কমিশনকে ১৮ বার তথ্য চেয়ে চিঠি লিখেছিল, কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। কমিশন পাল্টা দাবি করেছে, তাদের নির্দেশেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পুলিশকে সব তথ্য দিয়েছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল শুধু কর্নাটক নয়, মহারাষ্ট্রের উদাহরণও টানেন। তাঁর বক্তব্য, রাজুরা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৬৮৫০ জন ভোটারের নাম অবৈধভাবে তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। অর্থাৎ একদিকে যেমন নাম কেটে ফেলা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই নতুন নাম যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, “গোটা প্রক্রিয়াটাই হাইজ্যাক করা হয়েছে।”
এই অভিযোগ ঘিরে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি রাহুল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে খর্ব করা হচ্ছে, আর কমিশন সেই সব লোকেদের রক্ষা করছে।”
পুরো ঘটনায় তিনটি চরিত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন রাহুল—গোদাবাই, সূর্যকান্ত ও নাগরাজ। তিনি দাবি করেন, এঁদের নাম ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ভুয়ো আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, অথচ ওই ব্যক্তিরা নিজেরাই এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। তাঁর বক্তব্য, “এই সব ঘটনা প্রমাণ করে, কেউ একজন গোটা ব্যবস্থাটাকেই নিয়ন্ত্রণ করছে।”
অন্যদিকে, কমিশন রাতেই বিবৃতি জারি করে জানায়, রাহুলের অভিযোগের বেশিরভাগই ভিত্তিহীন। তবে ২০২৩ সালে অলন্দে ভোটার নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, এ কথা তারা মানছে। যদিও কমিশনের দাবি, সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।
ফলে, একদিকে রাহুল গান্ধী বারবার ভোট চুরির অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ খারিজ করে ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে আস্থা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই টানাপোড়েন থেকেই স্পষ্ট, আগামী দিনে ভোট নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়তে চলেছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ