রাহুলকে শেষ বার লিখেছিলাম!
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের চলে যাওয়ার আঘাত এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা সরকার। প্রায় আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও অভিনেতার শেষ ছবি দেখার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনও হয়নি তাঁর। কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখলেও রাহুলের স্মৃতি প্রতিটি মুহূর্তে সঙ্গী হয়ে রয়েছে বলে জানালেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি নিজের নতুন ওয়েব সিরিজ় ‘তারকাটা’-র প্রচারে এসে আনন্দবাজার ডট কম-এর সঙ্গে কথোপকথনে ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন প্রিয়াঙ্কা। ছেলে সহজকে নিয়ে জীবন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে রাহুলের আকস্মিক চলে যাওয়া এখনও মেনে নিতে পারেননি বলেই জানান অভিনেত্রী।
গরমের ছুটিতে ছেলে সহজকে নিয়ে বান্ধবগড় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই সফর আর হয়ে ওঠেনি। প্রিয়াঙ্কা বলেন, কাজের চাপ এবং বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কলকাতা ছেড়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য যাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সহজ এই কঠিন সময়টাকে খুব পরিণত ভাবে সামলেছে বলেও জানান তিনি।
রাহুলের পরিবারের পাশে থাকার বিষয়েও প্রিয়াঙ্কা বলেন, যতটা সম্ভব সময় দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। রাহুলের মা-কে নিয়েও চিন্তিত অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, কঠিন সত্য মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা, কিন্তু সময় গেলেই সব কিছু সহজ হয়ে যায় না।
রাহুলের মৃত্যুসংবাদ প্রথমে তাঁর মা এবং পরে ছেলে সহজকে জানাতে হয়েছিল— সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, “এর কোনও ক্লোজ়ার হয় না।” নিজের শক্ত থাকার কারণ হিসেবে রাহুলের শেখানো মূল্যবোধের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রিয়াঙ্কার কথায়, রাহুল শুধু ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গী নন, তাঁর পেশাগত জীবনেও বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন। চরিত্র বাছাই থেকে শুরু করে কাজের নানা বিষয়ে রাহুলের পরামর্শ পেতেন তিনি। এখনও রাহুলের পাঠানো কয়েকটি সিরিজ় ও ছবির তালিকা তাঁর ফোনে রয়েছে, কিন্তু সেগুলি দেখার মতো মানসিক অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি।
রাহুলকে শেষ কী লিখেছিলেন, সেই প্রসঙ্গেও আবেগঘন হয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তাঁর কথায়, শেষ বার্তায় তিনি লিখেছিলেন— “এখনও অনেকটা সময় আছে।” কিন্তু সেই সময় আর তাঁদের জন্য অপেক্ষা করেনি। এখন স্মৃতি আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে চলার চেষ্টা করছেন অভিনেত্রী।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?