লুচি বেললেন প্রিয়াঙ্কা
রবিবার দুপুর। উত্তর কলকাতার অলিগলি যেন পুজোর আমেজে ঢেকেছে আগেভাগেই। আকাশে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি, আর পাড়ার গলিতে ছড়িয়ে পড়া মাংস রান্নার গন্ধে যেন উৎসবের ঘণ্টাধ্বনি। ঠিক এই সময় পাথুরিয়াঘাটার এক বনেদি রাজবাড়িতে চলছিল একেবারে ভিন্নরকম দৃশ্য – সেখানে লুচি বেলছেন প্রিয়াঙ্কা সরকার আর খুন্তি ঘোরাচ্ছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়!
না, এটা কোনও পারিবারিক আড্ডা নয়, বরং পরিচালক অভিরূপ ঘোষের নতুন ছবির শুটিং চলছে সেখানে। গল্পের প্রেক্ষাপট দুর্গাপুজো, আর পুজোরই এক বিশেষ দিনে চরিত্ররা মিলে অতিথিদের রান্না করে খাওয়াচ্ছেন – এই দৃশ্যই ধরা পড়ছিল ক্যামেরায়। তবে চমক এখানেই নয়। প্রিয়াঙ্কা সত্যিই রান্না করছিলেন, শুধু অভিনয় নয়! লুচি, ছোলার ডাল – একেবারে হাতেকলমে সবটাই করছিলেন তিনি। পাশে আবীরও ব্যস্ত ছিলেন রান্নাঘরের নানা কাজে।
সেটটা সাজানো হয়েছিল যেন অষ্টমীর দিন। এক চালার প্রতিমা, আলপনা, তালপাতার পাখা – সবকিছু মিলিয়ে যেন পুজোর গন্ধে ভরপুর এক রাজবাড়ি। ছবির গল্প বেশ গা ছমছমে – একান্নবর্তী পরিবারের ছোট মেয়ে অসুস্থ, আর বিধবা মা তাঁকে সারিয়ে তুলতে আয়োজন করেন বাড়ির পুজো। এরপরই ঘটতে থাকে একের পর এক রহস্যময় ঘটনা। আবীর এখানে ‘পুরুত’-এর চরিত্রে, আর প্রিয়াঙ্কা মেয়ের মায়ের ভূমিকায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কার বাস্তব জীবন নিয়েও চলল খোলামেলা আড্ডা। ইদানীং বড় পর্দা বা ওয়েব সিরিজে তাঁকে মায়ের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে বারবার। প্রিয়াঙ্কার সহজ জবাব, “বাস্তবে আমি ২২ বছর বয়সে মা হয়েছি। পর্দায় মা হতে অসুবিধা কোথায়?” পাশে বসা শিশুশিল্পী লগ্নজিতা, যিনি প্রিয়াঙ্কার পর্দার মেয়ে, আদর করে বলেই ফেলল, “প্রিয়াঙ্কা আন্টি খুব স্মার্ট!” সোহাগে গাল টিপে আদর করে দিলেন অভিনেত্রী।
এদিকে আবীরের সাজও নজর কাড়ল। ধুতি-পাঞ্জাবি, হাতে দো-নলা বন্দুক, পিঠে চামড়ার ব্যাগ আর জানলায় লাল সুতো বাঁধার দৃশ্য – যেন কোনও রহস্যঘেরা পুরোহিত। প্রশ্ন শুনে হেসে উত্তর দিলেন, “এই সাজে কখনও ছিলাম না। একটু অস্বস্তি হলেও মজাই লাগছে।” ভূতের গল্পে অভিনয় করছেন, ভয় করেন না? প্রশ্ন শুনে একেবারে হেসে উড়িয়ে দিলেন, “একটুও না। ভূত চোখে দেখিনি কখনও!”
এই ছবিতে আরও রয়েছেন দর্শনা বণিক, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় ও ঐশ্বর্য সেন। তিনজনেই কমবয়সী, কিন্তু সকলের মধ্যে তৈরি হয়েছে দারুণ বন্ধুত্ব। কেউ সংলাপ মুখস্থ করছেন, কেউ ফোন ঘাঁটছেন—চলছে সবার নিজের নিজের প্রস্তুতি। মাত্র তিন দিনের শুটেই গড়ে উঠেছে এক আন্তরিক পরিবেশ।
শুটিংয়ের ফাঁকে দুপুরের খাবার ঘরোয়া আবহে পরিবেশিত হচ্ছে, যেন এক পরিবারের সবাই মিলে বসেছে খেতে। এই হাসি-আড্ডা, রান্না আর পুজোর গন্ধে ভরপুর সেট যেন বাস্তব আর কল্পনার সীমানা ঘুঁচিয়ে দিয়েছে।
একটা ছবির শুটিং যে কতটা প্রাণবন্ত, কতটা ঘরোয়া হতে পারে—রাজবাড়ির এই একদিন যেন তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ।