রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ এসি লোকাল!
একটি নতুন অধ্যায়ের শুরু হল সোমবার সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে, রানাঘাট স্টেশন থেকে শিয়ালদহের উদ্দেশে ছাড়ল প্রথম এসি লোকাল ট্রেন। আর সেই প্রথম যাত্রার টিকিট কাটার সৌভাগ্য হল আনন্দবাজার ডট কম-এর। ভাড়া? রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ পর্যন্ত মাত্র ১২০ টাকা। মাসিক পাস চাইলে গুনতে হবে ২,২০০ টাকা।
টিকিট কাউন্টারে প্রথমে একটু হোঁচটই খেলাম। কাউন্টার ক্লার্ক অবাক— “অ্যাঁ? এসি লোকাল? কোথায় পাব টিকিট! কিছুই তো জানি না!” মিনিট পাঁচেকের মধ্যে টিকিট মিলে গেল ঠিকই, কিন্তু বোঝা গেল, সিস্টেমের চেয়েও আমরা হয়ত একটু এগিয়ে ফেলেছি এই নতুন অভিজ্ঞতায়।
প্ল্যাটফর্মে তখনও সাধারণ ভিড়। কেউ জানতই না এই ট্রেনটা আজই প্রথম ছাড়বে। একটু পরে, যাত্রীদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ল। কেউ কেউ ভেবেছেন, “এটা কি রাজধানী এক্সপ্রেস?” পাশেই দিয়ে ছুটে যাওয়া ডাউন রাজধানীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের এসি লোকাল দুলছে। মজা করে কেউ বললেন, “আমরাও তো ওর চেয়েও ভালো ট্রেনে চড়ছি!”
একেবারে বিপরীত ছবি দেখা গেল টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে থাকা সুবোধ দে’র মধ্যে। স্ত্রী ক্যানসারের রোগী, কেমোথেরাপির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন কলকাতায়। বললেন, “ভিড়ের ট্রেনে যাওয়া কষ্টের, তাই এসি লোকালই একমাত্র ভরসা।” এই ট্রেন শুধু আরাম নয়, কারও কারও জীবনের প্রয়োজন।
যাত্রীদের চোখে এই ট্রেন এক নতুন অভিজ্ঞতা
গেটের সামনে তখন রীতিমতো ভিড়। কেউ এসেছেন স্রেফ প্রথম এসি লোকালে চড়ার নেশায়। সিঙ্গুরের তপন রায় তো রীতিমতো প্ল্যান করেই এসেছেন — শ্যাওড়াফুলি থেকে ব্যারাকপুর, তারপর উল্টো দিকের লোকালে রানাঘাট। বললেন, “নতুন ট্রেনে চড়তে খুব ভালো লাগে। এটা আমার শখ।”
আরও এক তরুণ যাত্রী, রায়গঞ্জ থেকে এসেছেন ভিডিও ব্লগ বানাতে! তাঁর সঙ্গীরা কেউ কেষ্টপুরের, কেউ রানাঘাটের। তাঁরা সবাই এসি লোকালের প্রথম যাত্রাকে ক্যামেরাবন্দি করবেন, ইউটিউবে শেয়ার করবেন।
ট্রেনের ভিতরটা কেমন?
বাইরে থেকে দেখতে সাধারণ লোকালের মতো। কিন্তু ভিতরে পা দিয়েই বুঝে যাবেন পার্থক্যটা। গায়ে বাতাস লাগছে শীতল, মাথার উপর স্টেনলেস স্টিলের হাতল, ধাতব আসন, পরিচ্ছন্ন কামরা। কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে সফর করছেন। আরপিএফের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো, নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো।
রিচা সেন, এক বেসরকারি সংস্থার কর্মী, জানলার পাশে বসে জানালেন, “রোজ সাধারণ ট্রেনে অফিস যাওয়া কষ্টকর ছিল। এখন থেকে এসি লোকালই আমার সঙ্গী।”
মনোজ মণ্ডল, স্ত্রী ও তিন মাসের সন্তানকে নিয়ে চলেছেন শিয়ালদহ হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের পথে। বললেন, “বাচ্চাকে নিয়ে ভিড়ে ওঠা যায় না। এই ট্রেন আমাদের জন্য আশীর্বাদ।”
একটা লোকাল ট্রেনের যাত্রা, যা ছুঁয়ে গেল মন
এই ট্রেন শুধুমাত্র আরামদায়ক সফর নয়, এটা অনেকের জন্য প্রয়োজন, অনেকের জন্য স্বপ্ন, আবার কারও কাছে নিছক আনন্দের উৎস। রানাঘাট থেকে শিয়ালদহ ১০৩ মিনিটের যাত্রা যেন একটা ছোটখাটো সিনেমা— যেখানে রয়েছে বাস্তব, আবেগ, হাসি, সুবিধা আর এক নতুন শুরুর রোমাঞ্চ।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?