তবে ক্রিকেট-ফুটবলে এখনই তাড়াহুড়ো নয়!
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে ক্রীড়া প্রশাসনেও। রাজ্যের নতুন সরকারের আবহে কলকাতার ময়দান থেকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা— সর্বত্রই বদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অধিকাংশ কর্তারই মত, এই পরিবর্তন রাতারাতি হবে না। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা বুঝতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
ক্রিকেট প্রশাসনে নজর সিএবি-র দিকে
বাংলার ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় Sourav Ganguly-র নেতৃত্বাধীন সিএবি। গত বছর তিনি দ্বিতীয় বার সভাপতি হলেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তখন থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন এড়ানো হয়েছে।
ক্রিকেট মহলের একাংশের দাবি, আগের সরকারের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সিএবি-তে জায়গা করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি কয়েক জন প্রশাসনিক আধিকারিকের নামও ঘুরছে অভিযোগের তালিকায়। এখন নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই অভিযোগগুলি আরও জোরালো ভাবে সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে সিএবি নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মেয়াদ এবং বয়সজনিত কারণে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। যদিও এখনই কোনও পক্ষ প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছে না।
ফুটবলেও বদলের ইঙ্গিত
রাজ্যের ফুটবল প্রশাসনেও একই রকম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। Indian Football Association-এর বর্তমান কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই অসন্তোষ ছিল একাংশের। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অতীতে।
বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাবকে কলকাতা লিগে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে তখনকার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এখন নতুন সরকারের জমানায় সেই ধরনের চাপ কমতে পারে বলে আশাবাদী অনেকেই। তবে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের নতুন সংবিধান কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন বা বড় প্রশাসনিক বদল তৎক্ষণাৎ সম্ভব নয় বলেই মনে করা হচ্ছে।
টেনিস সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে
সব ক্রীড়া সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিতে রয়েছে বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন। কারণ, সংস্থার সভাপতি হয়েছেন Leander Paes, যিনি নির্বাচনের আগেই জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন। ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলতে তাঁদের তুলনায় কম সমস্যা হবে বলেই মনে করছেন ক্রীড়া মহলের অনেকে।
অলিম্পিক খেলাগুলির নতুন আশা
ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে অন্য খেলাগুলিতে দীর্ঘ দিন ধরে সরকারি সহায়তার অভাব ছিল বলে অভিযোগ। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাবে বলে আশাবাদী বেঙ্গল অলিম্পিক্স অ্যাসোসিয়েশন। তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য, ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় গেমস আয়োজন করা।
কর্তাদের মতে, কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই রাজনৈতিক শক্তি থাকায় এবার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বিশেষ করে “খেলো ইন্ডিয়া”-র মতো প্রকল্প কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদী তাঁরা।
বড় ক্লাবগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা
কলকাতার বড় ক্লাবগুলির মধ্যেও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের প্রভাব পড়তে পারে। East Bengal FC-এর স্পনসরশিপ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান স্পনসর ভবিষ্যতে সরে যেতে পারে।
অন্য দিকে Mohun Bagan Super Giant-এ প্রশাসনিক ভারসাম্য নতুন করে বদলাতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও ক্লাবের কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে তা মানতে চাইছে না।
সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে Mohammedan Sporting Club। ক্লাব কর্তাদের বক্তব্য, আগের সরকারের সহায়তায় তাঁরা আইএসএলে খেলতে পেরেছিলেন। এখন নতুন সরকারের সমর্থন না পেলে আর্থিক সঙ্কট আরও বাড়তে পারে।
অপেক্ষার সময় ময়দানে
ময়দানের সামগ্রিক ছবি এখন এক ধরনের অপেক্ষার। কেউ দ্রুত অবস্থান বদলাচ্ছেন, কেউ আবার পরিস্থিতি বুঝে এগোতে চাইছেন। অনেকেই চাইছেন খেলাধুলোর প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমুক এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
তবে একটা বিষয় স্পষ্ট— রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ক্রীড়া প্রশাসনে পড়তে শুরু করেছে। এখন দেখার, এই বদল ভবিষ্যতে কতটা গভীর হয় এবং আদৌ তা খেলাধুলোর উন্নতিতে কাজে লাগে কি না।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা