এসআইআর শুনানিতে হাজিরা নিয়ে বড় ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন!
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে অনেকের মনেই ছিল একটাই প্রশ্ন— রাজ্যের বাইরে থাকলে কি শুনানিতে সশরীরে হাজিরা দিতেই হবে? এ বার সেই দুশ্চিন্তার অনেকটাই কাটাল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার জারি করা নতুন নির্দেশিকায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ভোটারদের নিজে এসে শুনানিতে বসতে হবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, পড়াশোনা, চিকিৎসা বা পেশাগত কারণে যাঁরা সাময়িক ভাবে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁরা সশরীরে হাজিরার বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় পাবেন। অর্থাৎ, ওই ভোটারকে আর শুনানিকেন্দ্রে ছুটে আসতে হবে না। পরিবর্তে তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে উপস্থিত হলেই চলবে। এই নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের পাঠানো হয়েছে।
কাদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য? কমিশন জানিয়েছে, ছাত্রছাত্রী, চিকিৎসাধীন ভোটার এবং বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত সেই সব মানুষ, যাঁরা কাজের সূত্রে রাজ্যের বাইরে আছেন— তাঁদের এই সুবিধা মিলবে। বিশেষ করে নো-ম্যাপিং বা এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম কার্যকর হবে।
শুধু তা-ই নয়, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরাও এই ছাড়ের আওতায় পড়ছেন। সরকারি দফতর, পিএসইউ, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভোটাররা যদি রাজ্যের বাইরে কর্মরত থাকেন, তাঁদেরও শুনানিকেন্দ্রে আসতে হবে না। তবে সব ক্ষেত্রেই একটি শর্ত আছে— পরিবারের কোনও সদস্যকে নির্ধারিত নথি নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে যেতে হবে।
নথিপত্রের বিষয়টিও স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। পরিবারের সদস্যকে প্রথমে দেখাতে হবে, তিনি যে ভোটারের হয়ে এসেছেন, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ। তার পরে জমা দিতে হবে এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কমিশন যে ১৩ ধরনের নথির তালিকা আগেই প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে যে কোনও একটি দিলেই শুনানি সম্পন্ন হবে।
এর পাশাপাশি কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সি ভোটারদের ক্ষেত্রে শুনানিকেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কমিশনের প্রতিনিধিরাই তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানির কাজ সেরে নেবেন। একই নিয়ম প্রযোজ্য প্রতিবন্ধী ও গুরুতর অসুস্থ ভোটারদের ক্ষেত্রেও। এ জন্য পরিবারের কাউকে ইআরও বা এইআরও-র কাছে আবেদন করতে হবে। যদি আগেই নোটিস পাঠানো হয়ে থাকে, তা হলে কমিশনের তরফে ফোন করে হাজিরা না দেওয়ার কথাও জানানো হবে।
এখনও পর্যন্ত এসআইআর শুনানির প্রাথমিক ধাপে নো-ম্যাপিং তালিকাভুক্ত ভোটারদেরই বেশি ডাকা হচ্ছে। এই তালিকায় রয়েছেন সেই সব ভোটার, যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের কোনও যোগ দেখাতে পারেননি। মোট প্রায় ৩১ লক্ষের বেশি ভোটার এই তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে বহু মানুষের শুনানি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সব মিলিয়ে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বাইরে থাকা বহু ভোটারের জন্য প্রক্রিয়াটি অনেকটাই সহজ হল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি