যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে কলকাতায় আন্তর্জাতিক সম্মেলন!
যোগাযোগব্যবস্থা, প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক মানের এক বিশেষ সম্মেলন। ৪ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটিতে (এসএনইউ) আয়োজিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন (আইসিএ) রিজিওনাল হাব কলকাতা ২০২৬’। তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক, মিডিয়া বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
‘কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনইকোয়ালিটিজ ইন কনটেক্সট’ শীর্ষক এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্তমান বিশ্বের যোগাযোগব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং সামাজিক বৈষম্যের বিষয়গুলি নিয়ে গভীর আলোচনা করা। সম্মেলনে মোট ১০৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হয়, যা এই আয়োজনের গবেষণামূলক গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএনইউ-র উপাচার্য অধ্যাপক অনুপম বসু, শিক্ষাবিদ সুরঞ্জন দাস, আশুতোষ ঘোষ, অধ্যাপক বি.পি. সঞ্জয় এবং অধ্যাপক মিনাল পারেখ-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। বিভিন্ন অধিবেশনে পূর্ণাঙ্গ বক্তৃতা, প্যানেল আলোচনা, প্রেসিডেনশিয়াল সেশন এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ সম্পর্কিত বিশেষ সেশন আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘বিয়ন্ড ডেভেলপমেন্ট প্যারাডাইমস: রিফ্রেমিং গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইনইকোয়ালিটিজ’ শীর্ষক বক্তৃতা। সেখানে বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যম ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া বৈষম্য এবং তার প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। পাশাপাশি, উন্নয়নমূলক যোগাযোগের প্রচলিত ধারণাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
এ ছাড়া আইসিএ প্রেসিডেনশিয়াল সেশনে গবেষণাক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারী গবেষক ও শিক্ষাবিদেরা বর্তমান সময়ে গবেষণা পরিচালনার বাস্তব সমস্যাগুলি তুলে ধরেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন প্যানেল আলোচনায় সম্প্রচার মাধ্যম, ডিজিটাল যোগাযোগে নৈতিকতা, তথ্যের সঠিক ব্যবহার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ, ভাষাগত বৈষম্য এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় হয়। এছাড়াও ভুয়ো তথ্যের বিস্তার, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব এবং গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
আইসিএ ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রধান অধ্যাপক বি.পি. সঞ্জয় সম্মেলনের প্রশংসা করে বলেন, এই আয়োজন গবেষণার মান, অংশগ্রহণকারীদের বৈচিত্র্য এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এসএনইউ-র স্কুল অব আর্টস, মিডিয়া অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন অধ্যাপক মিনাল পারেখ জানান, পূর্ব ভারতের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইসিএ-র এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পেরে তাঁরা গর্বিত। তাঁর মতে, এই আয়োজন বিশ্বমানের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএনইউ-র প্রো-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক দেব নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক দুর্গেশ ত্রিপাঠী।
সফল এই আয়োজন শুধু সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক মর্যাদাই বৃদ্ধি করেনি, বরং বিশ্বমানের শিক্ষাবিষয়ক আলোচনা ও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার অবস্থানকেও আরও সুদৃঢ় করেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?