যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপাকে সুনীতা উইলিয়ামস, কবে ফিরবেন পৃথিবীতে?

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপাকে সুনীতা উইলিয়ামস! মহাকাশ থেকে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সহযাত্রীদের। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তাঁদের পৃথিবীতে ফেরার দিনক্ষণ আবারও পিছিয়ে গেল।…

March 13, 2025
1 min read

যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিপাকে সুনীতা উইলিয়ামস!

মহাকাশ থেকে ফেরার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সহযাত্রীদের। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে তাঁদের পৃথিবীতে ফেরার দিনক্ষণ আবারও পিছিয়ে গেল। নাসা এবং ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেসএক্স দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করলেও, এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না কবে তাঁরা ফিরতে পারবেন।

কি কারণে থমকে গেল মিশন?

গত বছরের ৫ জুন মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং বুচ উইলমোর বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) গিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৮ দিন পরেই তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই বোয়িং স্টারলাইনারে গুরুতর যান্ত্রিক সমস্যা ধরা পড়ে। ফলে এই যানটি ব্যবহার করে তাঁদের ফেরানো সম্ভব হয়নি। সেই থেকে তাঁরা মহাকাশেই আটকে আছেন, আর আটদিনের সফর দীর্ঘায়িত হয়েছে ১০ মাসেরও বেশি!

প্রাথমিকভাবে নাসা সিদ্ধান্ত নেয় স্পেসএক্স-এর ক্রিউ-১০ মহাকাশযান দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে। সেই লক্ষ্যে ১২ মার্চ ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ক্রিউ-১০ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই অভিযানে আরও চারজন নভোচারী যোগ দিতেন—নাসার অ্যান ম্যাক্লেন এবং নিকোল আয়ার্স, জাপানের তাকুয়া ওনিশি, এবং রাশিয়ার কিরিল পেসকভ। তাঁরা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে গবেষণার দায়িত্ব বুঝে নিতেন এবং সুনীতারা সেই মহাকাশযানে করে পৃথিবীতে ফিরে আসতেন।

কিন্তু উৎক্ষেপণের আগেই ফ্যালকন ৯ রকেটে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে, যার ফলে নাসা ও স্পেসএক্স এই অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়।

এখন কী হবে?

নাসা জানিয়েছে, দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে নতুন উৎক্ষেপণের সময়সূচি ঘোষণা করা হবে। তবে নির্দিষ্ট করে কোনও তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয়। অর্থাৎ, সুনীতাদের আরও কিছুদিন মহাকাশেই কাটাতে হবে।

১০ মাসের মহাকাশবাস—কতটা চ্যালেঞ্জিং?

মাত্র ৮ দিনের সংক্ষিপ্ত সফর যে এত দীর্ঘায়িত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মহাকাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। সেখানে স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় দেহের পেশি ও হাড় দুর্বল হয়ে যায়। এছাড়া, মহাকাশচারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটানা সীমিত জায়গায় থাকার কারণে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

নাসা ও স্পেসএক্সের পরিকল্পনা

নাসা এবং স্পেসএক্স-এর বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি সারানোর জন্য দিনরাত কাজ করছেন। তাঁদের লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব মহাকাশযান পুনরায় উৎক্ষেপণ করা, যাতে সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরতে পারেন।

শেষ কথা

মহাকাশ অভিযানে যান্ত্রিক ত্রুটি নতুন কিছু নয়। তবে পরিকল্পিত ৮ দিনের মিশন ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। নাসা ও স্পেসএক্স আশ্বস্ত করেছে, অতি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে অভিযান চালানো হবে। এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গোনা!

দোল উৎসবে ভাংড়ার ছন্দে মমতা: পরের বছর হবে আরও বড় আয়োজন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *