প্রাথমিক ময়নাতদন্তে কী জানা গেল
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের অকালমৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনের পুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল—দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কোনও কারণ—তা নিয়ে তীব্র জল্পনা চলছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে পেতেই কিছুটা হলেও পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, অনামিকার মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবে। তাঁর শরীরে বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। তবে মৃত্যুর আগে তিনি মদ্যপান করেছিলেন কি না বা শরীরে অন্য কোনও মাদক পদার্থ প্রবেশ করেছিল কি না, তা জানার জন্য ভিসেরা পরীক্ষার নমুনা পাঠানো হয়েছে। সেই রিপোর্ট এলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছিল ড্রামা ক্লাবের অনুষ্ঠান। অনামিকাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। রাত প্রায় ১০টা ২০ নাগাদ হঠাৎই তাঁকে ভেসে থাকতে দেখেন কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কেপিসি হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানান, ততক্ষণে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
মাত্র একুশ বছরের অনামিকা উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ইংরেজি বিভাগে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছিলেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কার্যকলাপেও সক্রিয় ছিলেন। তাই এমন অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের মধ্যেও।
তবে প্রশ্ন উঠছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে। এত ছাত্রছাত্রী ও নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অনামিকা একা পুকুরের ধারে চলে গেলেন? সেই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে কেউ ছিলেন কি না, বা তিনি নিজে থেকে গিয়েছিলেন কি না—তা স্পষ্ট নয়। ক্যাম্পাসের নানা জায়গায় সিসি ক্যামেরা থাকলেও সংশ্লিষ্ট পুকুরের দিকে কোনও ক্যামেরা ছিল না। ফলে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ মেলেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নম্বর গেটের সামনে তিনটি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলি অন্যদিকে মুখ করা। এই কারণে তদন্তে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের বারান্দা থেকে পড়ে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ালেও অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত নজরদারি এখনও নেই। সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত জানিয়েছেন, ওই রাতে আসলে এত দেরি পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলার কথা ছিল না। তাই ঘটনার সময় অনামিকার অবস্থান এবং মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। পাশাপাশি, ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর আসল কারণ অনেকটাই পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আপাতত বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শোক আর আতঙ্ক—দুয়েরই মিশ্র ছায়া বিরাজ করছে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ