যমালয়ে জীবন্ত ভানু: দুর্বল চিত্রনাট্য এবং হাসির খেই হারানোর আক্ষেপ

যমালয়ে জীবন্ত ভানু ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’ ছবির মধ্যে এক নস্টালজিক মূহূর্ত আসে যখন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও দর্শনা বণিক পুনর্নির্মাণ করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত সংলাপ ‘মাসিমা মালপো খামু’। তবে, ছবির চিত্রনাট্য…

November 17, 2024
0 min read

যমালয়ে জীবন্ত ভানু

‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’ ছবির মধ্যে এক নস্টালজিক মূহূর্ত আসে যখন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ও দর্শনা বণিক পুনর্নির্মাণ করেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত সংলাপ ‘মাসিমা মালপো খামু’। তবে, ছবির চিত্রনাট্য এবং পরিচালনায় কিছু ত্রুটি দর্শকদের অভ্যস্ত হাস্যরসের থেকে সরে যেতে বাধ্য করেছে।

গত এক দশকে বায়োপিকের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের। বাঙালি চলচ্চিত্রেও এমন ছবি নির্মিত হচ্ছে যেখানে প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদের জীবনের নানা অজানা দিক তুলে ধরা হচ্ছে। সেই ধারায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের অবদান এবং তাঁকে নিয়ে নির্মিত ছবি ‘যমালয়ে জীবন্ত ভানু’। তবে, এটি পুরোপুরি জীবনীচিত্র নয়। পরিচালক কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনের কিছু অজানা দিক এবং তাঁর কমেডি দক্ষতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তবে, গল্প এবং চিত্রনাট্যের মধ্যে কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা ছবিটির গতি ধীর করে দেয়।

ছবির কাহিনীতে বিজ্ঞানী সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু এবং তাঁর আত্মা যমালয়ে চলে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা হয় জীবন্ত ভানুর। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ে জীবন্ত ভানু চরিত্রটি যেন বাস্তবে রূপ নেয়, তাঁর রূপান্তর ও ম্যানারিজম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে, গল্পের মধ্যে হাসির রসের পাশাপাশি চরিত্রগুলোর যন্ত্রণা এবং সংকট সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়নি। হাসির ছবিতে শুধু মজা করার উদ্দেশ্য নয়, এর মধ্য দিয়ে এক ধরনের মর্মস্পর্শী দিকও সামনে আসে, যা এই ছবিতে সেভাবে স্পষ্ট হয়নি।

ছবির শুরুতে আশা ছিল, প্রখ্যাত ছবি ‘যমালয়ে জীবন্ত মানুষ’ এবং ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম দর্শককে আকর্ষণ করবে। তবে, গল্পের গতি প্রায় ৪০ মিনিট পর থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ছবির অপ্রয়োজনীয় সংলাপ এবং দীর্ঘ দৃশ্যগুলো ছবিটির গতির সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এতে দর্শকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়।

বেশ কিছু জায়গায় যুক্তির অভাবও রয়েছে, যেমন, বিজ্ঞানী সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেহ শ্মশানে সাদামাঠা ভাবেই নেওয়া হচ্ছে, যা বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কিছু দৃশ্যের দৈর্ঘ্য কমানো হলে ছবিটি আরও আকর্ষণীয় হতে পারত।

তবে ছবির মধ্যে কিছু মধুর স্মৃতি রয়েছে যা দর্শককে প্রভাবিত করে। ভানু ও সাম্যময়ের ফাইল খোঁজার দৃশ্য, শ্মশানে বৃষ্টি আসা, এবং শাশ্বত ও বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়ের গান ‘আশিতে আসিও না’ সেই যুগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে।

ছবির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিল শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ম্যানারিজম তিনি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তবে, পুরো ছবির মধ্যে দর্শককে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা কি পূর্ণাঙ্গভাবে রক্ষা করা গেছে? এটি একটি বড় প্রশ্ন, যেটি পুরো ছবির অভিজ্ঞতাকে ক্ষুণ্ন করে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *