স্ত্রীর মৃত্যুর ৯ দিন পর ভালোবাসায় ভরা পরাগের আবেগঘন বার্তা!
স্ত্রী শেফালী জরিওয়ালার মৃত্যুর পর যেন নিঃশব্দে ভেঙে পড়েছেন অভিনেতা পরাগ ত্যাগী। প্রকাশ্যে চোখের জল লুকোতে পারেননি তিনি, আর এই শোক এত সহজে মুছে যাওয়ার নয়—এটা তার প্রতিটি সামাজিক মাধ্যমে পোস্টেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। স্ত্রীর চলে যাওয়ার পর, তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে ধরেই যেন বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নিচ্ছেন পরাগ।
সাম্প্রতিক এক আবেগঘন পোস্টে তিনি ভাগ করে নিয়েছেন শেফালীর সঙ্গে কাটানো একগুচ্ছ মুহূর্ত—ছবিতে কখনও তাঁরা একে অপরের চোখে চোখ রাখছেন, কখনও আবার প্রাণখোলা হাসিতে ভরিয়ে দিচ্ছেন ফ্রেম। ক্যাপশনে পরাগ লিখেছেন, “তুমি যত বার জন্মাবে, আমি তোমাকে ঠিক খুঁজে বার করব। প্রতি জন্মে তোমাকেই ভালবাসব। আমার গুন্ডি, আমার ছোকরি, তোমাকেই আমি ভালবেসে যাব।”
এই লেখার মাধ্যমে যেন জীবনের গভীরতম শূন্যতাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। যেন বোঝাতে চেয়েছেন, শেফালীর চলে যাওয়া মানে তাঁদের প্রেমের ইতি নয়—বরং চিরন্তন যাত্রার শুরু।
শেফালীর মৃত্যু ঘিরে কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নও উঠেছিল, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কেউ কেউ পরাগের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু শেফালী নিজের একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পরাগের সঙ্গেই তিনি সবচেয়ে সুখী। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, পরাগের ভালোবাসা, যত্ন আর বন্ধুত্ব তাঁকে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে সাহস জুগিয়েছে। সেইসব কথাই যেন আজ ফিরে ফিরে আসছে পরাগের সামাজিক পোস্টে।
শুধু স্বামী হিসেবেই নয়, বন্ধুর ভূমিকাতেও শেফালী ছিলেন অনন্য—এমনটাই জানিয়েছেন পরাগ। কিছুদিন আগে অন্য এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “‘কাঁটা লাগা’-র জন্য ওকে সবাই মনে রাখবে, কিন্তু ওর প্রকৃত ব্যাপ্তি ছিল আরও অনেক বেশি। ও এক অগ্নিপিণ্ড ছিল—মাধুর্যে মোড়া, অথচ নিজের লক্ষ্যে একেবারে অবিচল। ওর উজ্জ্বল উপস্থিতি আশপাশের সবাইকে আলো দিত।”
পরাগের শোকভরা এই মূহূর্তগুলোতে তাঁর ভক্তরাও পাশে রয়েছেন। হাজারো অনুরাগী সেই ছবি ও বার্তার নিচে নিজেদের আবেগ ব্যক্ত করেছেন, জানিয়ে দিয়েছেন শেফালীর মতো একজন মানুষ কীভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।
পরাগের কথায়, “আমি ওকে শুধু কাঁদতে চাই না। আমি ওর ব্যক্তিত্ব, ওর আলো, ওর অনুপ্রেরণাকে সেলিব্রেট করতে চাই। কারণ ওর জীবনটাই ছিল এমন—দৃঢ়, মায়াময়, আর আলোকিত।”
এই ভালোবাসা, এই বন্ধন, মৃত্যুর গণ্ডি পেরিয়েও রয়ে যায় অক্ষুণ্ণ। পরাগ ত্যাগী যেন সেই কথাটিই প্রতিবার লিখে যাচ্ছেন, ছবি পোস্ট করে, স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে। শেফালী আজ নেই, কিন্তু ভালোবাসা থেকে যাবে চিরকাল।
গলওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সলমন খান! ভাইজানের নতুন ছবির পেছনে রয়েছে ভারতের সাহসী ইতিহাস