বড়দের নামিয়েও ‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান, কলকাতা লিগের ডার্বি শেষ ১-১

‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান! কলকাতা লিগের ডার্বিতে প্রথম দলের একাধিক পরিচিত মুখকে খেলিয়েও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয় পেল না মোহনবাগান। সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে দু’দলের লড়াই শেষ হল ১-১ গোলে। প্রথমার্ধে…

September 7, 2026
1 min read

‘ছোটদের’ হারাতে পারল না মোহনবাগান!

কলকাতা লিগের ডার্বিতে প্রথম দলের একাধিক পরিচিত মুখকে খেলিয়েও ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জয় পেল না মোহনবাগান। সোমবার বারাসত স্টেডিয়ামে দু’দলের লড়াই শেষ হল ১-১ গোলে। প্রথমার্ধে মনবীর সিংহ মোহনবাগানকে এগিয়ে দিলেও দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসাবে নামা মহম্মদ বিলালের গোলে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল।

এই ম্যাচে দুই দলেরই সুপার সিক্সের জায়গা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ফলে গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট পরের পর্বে যোগ হবে না। তবু ডুরান্ড কাপ ফাইনালে হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ হিসাবে ম্যাচটিকে দেখছিল মোহনবাগান। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি তারা। বরং দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল যে ভাবে চাপ তৈরি করে, তাতে শেষ পর্যন্ত ড্র-ই মোহনবাগানের কাছে স্বস্তির ফল হয়ে দাঁড়ায়।

ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গল প্রথম দলের একাধিক ফুটবলারকে বিশ্রাম দিয়েছিল। জয় বাজ, চাকু মান্ডি, আকাশ হেমব্রমদের উপর ভরসা করে দল নামানো হয়। বিপরীতে মোহনবাগানের প্রথম একাদশে ছিলেন মেহতাব সিংহ, রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, আপুইয়া, সাহাল সামাদ এবং মনবীরের মতো ফুটবলার।

শুরু থেকেই বলের দখল ছিল মোহনবাগানের কাছে। আক্রমণে বার বার উঠে আসছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মনবীর। কিন্তু আগের বৃষ্টিতে মাঠের অবস্থা খারাপ থাকায় স্বাভাবিক পাসিং ফুটবল খেলতে সমস্যা হচ্ছিল। কাদায় বল আটকে যাচ্ছিল, দু’দলের ফুটবলারদেরই মাঝেমধ্যে ভারসাম্য হারাতে দেখা যায়।

প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি থাকলেও মোহনবাগান খুব বেশি পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ৩৬ মিনিটে মনবীরের সামনে ভাল সুযোগ এসেছিল। তবে ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক গৌরব সাউ দ্রুত বেরিয়ে এসে বিপদ সামলান।

দু’মিনিট পর অবশ্য আর ভুল করেননি মনবীর। দূর থেকে আসা বল কয়েক বার ড্রপ খেয়ে তাঁর সামনে পড়ে। ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক দু’জনেই এগিয়ে এসেছিলেন। সেই সুযোগে অঙ্কন ভট্টাচার্যের পায়ের ফাঁক দিয়ে শট নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন মনবীর। ১-০ এগিয়ে যায় মোহনবাগান।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ অন্য ছবি। ইস্টবেঙ্গল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে মোহনবাগানের বক্সে। ৫৩ মিনিটে মনোতোষ চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে তাঁর জায়গায় নামেন বিলাল। কিছু ক্ষণের মধ্যেই তিনিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

৫৬ মিনিটে মোহনবাগানের রক্ষণে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ পেয়ে আকাশ হেমব্রম গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু শট নিতে দেরি করায় মেহতাব গোললাইন থেকে বল সরিয়ে দেন। এর পর বিজয়ও সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। ৬৩ মিনিটে চাকু মান্ডির দূরপাল্লার শট বাঁচান মোহনবাগান গোলরক্ষক দীপ্রভাত ঘোষ। কর্নার থেকে উত্তমের হেড আবার বারে লাগে।

শেষ পর্যন্ত ৬৫ মিনিটের কাছাকাছি ইস্টবেঙ্গলের চাপের ফল আসে। বিজয়ের কর্নার থেকে উঠে হেড করে গোল করেন বিলাল। ১-১ হয়ে যায় ম্যাচ।

শেষ দিকে অবশ্য দু’দলই জয়ের চেষ্টা করে। ৮৪ মিনিটে সায়নের শট দুর্দান্ত ভাবে ঠেকান গৌরব সাউ। সংযুক্তি সময়েও ইস্টবেঙ্গল কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু গোল আসেনি।

ড্রয়ের ফলে ১১ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকেই সুপার সিক্সে গেল ইস্টবেঙ্গল। গোলপার্থক্যে তারা ভবানীপুরের উপরে। মোহনবাগানের সংগ্রহ ১১ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট। তবে প্রথম দলের একাধিক ফুটবলার নামিয়েও জয় না পাওয়ায় ডার্বির ফল নিয়ে সবুজ-মেরুন শিবিরে হতাশা থাকছেই।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *