মোদীর ভবিষ্যদ্বাণী!
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের অঙ্গনে উত্তেজনা তুঙ্গে। রবিবার কোচবিহারে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান, “নির্বাচন কমিশনের উপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এবার বাংলায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। ভোট হবে নির্ভয়ে, আর পরিবর্তনের জন্যও হবে।” এই বার্তাকে অনেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন, কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে সরব।
মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। বিভিন্ন জনসভায়ও তিনি কমিশন এবং বিজেপিকে এক আসনে বসিয়ে ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কমিশনের ওপর আস্থা প্রকাশ রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াচ্ছে।
ভোট ও পরিবর্তনের বার্তা
মোদী কোচবিহারে বলেন, “ব্রিগেডের সভা দেখে তৃণমূলের সিন্ডিকেট ঘাবড়ে গিয়েছে। ভোটের পর তৃণমূলের সব পাপের হিসাব হবে, বেছে বেছে হিসাব করা হবে।” ব্রিগেড সভার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেন।
রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি মোদী জনবিন্যাস বদল ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাঙ্ক বানিয়েছে তৃণমূল। আর এই অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতেই তৃণমূল এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে। বাংলার মানুষের নিরাপত্তা বিপদের মুখে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের রোখা হবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুর্নীতি ও যুবসমাজের ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলার সরকারি চাকরির নিয়ন্ত্রণ তৃণমূলের সিন্ডিকেটের হাতে। যুবসমাজ জানে, কত বড় নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে। মন্ত্রী, বিধায়ক—উপর থেকে নিচ পর্যন্ত গোটা দল এতে যুক্ত। কাটমানি, কমিশন, দুর্নীতি—সবই বাংলার ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে।”
মহিলা ভোটে পদ্মশিবিরের নজর
মোদী নারীদের জন্য বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “বিজেপি এলে মহিলারা স্বনির্ভর হবেন। কেন্দ্র সরকার মা-বোনেদের সব সুবিধা দিয়েছে। ৩ কোটি মহিলাকে লাখপতি বানানো হয়েছে। আমাদের সরকার ৩৩% সংরক্ষণ আইন এনেছে, যা ২০২৯ থেকে কার্যকর হবে।” তিনি দাবি করেন, বিজেপি ‘মা-বোনেদের ফার্স্ট চয়েস’।
ভাষা ও সাংস্কৃতিক বার্তা
ভাষা প্রসঙ্গেও মোদী বার্তা দেন। তিনি বাংলায় বলেন, “এবার বাংলায় একটাই আওয়াজ—পাল্টানো দরকার। জঙ্গলরাজের অন্ত হবে।” মোদী অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল তাদের ইস্তাহার বাংলায় প্রকাশ করেনি। 이에 তৃণমূলের সাংসদ পাল্টা মন্তব্য করেন, “২০১৪-তে বিজেপিই ইশতেহার শব্দ ব্যবহার করেছিল। এবার মোদীও ব্যবহার করছেন। তাহলে সমালোচনা কেন?”
রাজনীতির এই উত্তাপ স্পষ্ট করে দিয়েছে—নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা, দুর্নীতি, জননিরাপত্তা, মহিলা ভোট ও পরিবর্তনের ইস্যু এবার ভোটের মূল কেন্দ্রবিন্দু। মোদীর বার্তা অনুযায়ী, বাংলার ভোট শুধু নিরপেক্ষ হবে না, পরিবর্তনের প্রতীকও হবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না