মোদীর আমন্ত্রণে ডিসেম্বরেই ভারতে আসছেন পুতিন!
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই ভারত সফরে আসছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার মস্কো থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে ক্রেমলিন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
রাশিয়া-ভারত সম্পর্ক বহুদিন ধরেই দৃঢ়, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়া ভারতের সাহসী সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করেছে। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর জরিমানা-সহ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে পুতিনের ভারত সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্ব পাচ্ছে।
পুতিনের সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পুতিন মুখোমুখি হবেন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-র শীর্ষ সম্মেলনে। আগামী ৩১ অগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর চীনের তিয়ানজ়িন শহরে হবে এই বৈঠক। সোমবার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর ঠিক আগেই ক্রেমলিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, পুতিন ডিসেম্বরের সফরের আংশিক সূচি মস্কো ঠিক করেছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেখানেই পুতিনের সঙ্গে তার পার্শ্ব বৈঠক হয়েছিল। এরও আগে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাশিয়া সফরে গিয়ে মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে পুতিনকে ভারতে আসার আমন্ত্রণ জানান। মার্চে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের কথা জানান, যদিও সফরের সঠিক তারিখ তখন প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি মাসেই মস্কো সফরে গিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে এ বছরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভারতের মাটিতে পা রাখতে পারেন। শুক্রবার ক্রেমলিনের এই ঘোষণা সেই সম্ভাবনাকেই পোক্ত করল।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বার্তা দেবে এই সফর।
পুতিনের সফরের মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিসেম্বরের এই সফর কেবল রাজনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যত পরিকল্পনারও একটি নতুন দিশা তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নে দৃঢ় সংকল্প ভারত, এসসিও শীর্ষবৈঠকে নতুন কূটনৈতিক দিশা খুঁজছেন মোদী