মেসি-কাণ্ডে নতুন মোড়!!
লিয়োনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনও থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিতর্ক আরও জটিল আকার নিচ্ছে। এবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও মানহানির মামলা দায়ের করার ঘোষণা করলেন ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত।
শতদ্রু জানিয়েছেন, আগামী ৩ জুন আদালতে এই মামলা দায়ের করা হবে। তাঁর দাবি, মেসির অনুষ্ঠানকে ঘিরে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার ফলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই হয়নি, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনামও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শতদ্রু জানান, মামলার প্রস্তাবিত বিবাদীদের তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস এবং কয়েকজন সাংবাদিক। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্তের ফলে অনুষ্ঠানটির ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে এবং আয়োজকদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
শতদ্রুর দাবি, ইতিমধ্যেই দায়ের হওয়া এফআইআরে আরও কয়েকজনের নাম যুক্ত করার আবেদন জানানো হবে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, বেআইনি অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক ধারায় তদন্তের দাবি তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, নথিপত্র এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট ১৯ জন ব্যক্তির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণের ফলে অনুষ্ঠান, আয়োজক সংস্থা, সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ।
এদিকে বাটা ক্লাবের প্রতিনিধি অভিজিৎ দত্তের বিরুদ্ধেও অনুমতি ছাড়া মাঠে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন শতদ্রু।
উল্লেখযোগ্যভাবে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পাঁচটি ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে। অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতারণা, তোলাবাজি, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর বিষয়।
শতদ্রুর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসির অনুষ্ঠানের আগে অরূপ বিশ্বাস বিপুল সংখ্যক বিনামূল্যের টিকিট দাবি করেছিলেন। দাবি পূরণ না হলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলির একাংশ কালোবাজারিতে বিক্রি হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মেসির সফরের দিন যুবভারতীতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। মাঠে অতিরিক্ত ভিড়, অননুমোদিত প্রবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভাঙনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পলের মতো তারকা ফুটবলাররাও ভিড়ের চাপে আহত হন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা মেসিকে দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হন।
এর পরেই গ্যালারিতে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়। প্রথম মামলায় গ্রেফতার হন শতদ্রু নিজেই। পরে আরও কয়েকজনকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। আগামী ৩ জুন দায়ের হতে চলা ১০০ কোটির ক্ষতিপূরণ মামলার দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল, ক্রীড়া প্রশাসন এবং ফুটবলপ্রেমীদের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?