মেসির পেনাল্টি রহস্য!
ফুটবল দুনিয়ায় লিয়োনেল মেসির শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খুব কম মানুষেরই সন্দেহ রয়েছে। বিশ্বকাপে একাধিক নজির, আটটি বালঁ দ্যর এবং অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য তাঁকে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাঁর বাঁ পায়ের জাদুতে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই মেসিই যখন পেনাল্টি স্পট থেকে শট নেন, তখন পরিসংখ্যানটা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচে পেনাল্টি নষ্ট করার পর আবারও সামনে এসেছে প্রশ্ন—কেন পেনাল্টিতে বার বার সমস্যায় পড়েন মেসি? বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সাতটি পেনাল্টি নিয়েছেন তিনি, যার মধ্যে তিনটিতে গোল করতে পারেননি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিরুদ্ধে উজসিয়েচ সেজেনি এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে হ্যানেস হালডরসন তাঁর পেনাল্টি আটকে দিয়েছিলেন।
ক্লাব এবং দেশের হয়ে মেসির পেনাল্টি পরিসংখ্যানও তাঁর সামগ্রিক মানের তুলনায় কিছুটা মাঝারি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩১টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টিতে গোল করেছেন তিনি। ক্লাব ফুটবল মিলিয়ে ১৪৯টি প্রচেষ্টায় সফল হয়েছেন ১১৬ বার। অর্থাৎ সাফল্যের হার প্রায় ৭৭ শতাংশ। একজন সাধারণ ফুটবলারের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা দুর্দান্ত হলেও মেসির মতো নিখুঁত খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে তা কিছুটা ব্যতিক্রম বলেই মনে হয়।
অনেকে মনে করেন, মেসির বাঁ পা হয়তো এই সমস্যার অন্যতম কারণ। কিন্তু পরিসংখ্যান সেই ধারণাকে সমর্থন করে না। বাঁ পায়ের ফুটবলারের সংখ্যা এমনিতেই কম, তাই তাঁদের পেনাল্টির সংখ্যাও কম। আসল বিষয় হল, পেনাল্টি নেওয়ার সময় মেসি অনেক ক্ষেত্রে গোলকিপারের মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করেন। তিনি অপেক্ষা করেন, গোলকিপার কোন দিকে ঝাঁপাবেন, তারপর বিপরীত দিকে বল রাখার চেষ্টা করেন।
এই কৌশল বহুবার তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে তাঁর অধিকাংশ পেনাল্টিতেই দেখা গিয়েছিল, গোলকিপার আগে থেকেই এক দিকে ঝুঁকে পড়ছেন এবং মেসি অন্য দিকে বল পাঠাচ্ছেন। কিন্তু যখন গোলকিপার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্থির থাকেন, তখন মেসির কৌশল কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে।
অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ঠিক এমনটাই হয়েছিল। ভার-এর সিদ্ধান্তের পর প্রস্তুতির জন্য মেসির হাতে কয়েক মিনিট সময় ছিল। ছোট রান-আপ নিয়ে তিনি গোলকিপার আলেকজান্ডার স্লাগারের গতিবিধি বোঝার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্লাগার শেষ পর্যন্ত নিজের জায়গায় স্থির থাকেন। মেসি কোনও ইঙ্গিত পাননি এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর শট পোস্টের বাইরে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফুটবলে গোলকিপাররা এখন পেনাল্টি নেওয়ার সময় ফুটবলারের শরীরী ভাষা, রান-আপ এবং চোখের দৃষ্টি বিশ্লেষণ করেন। ফলে শুধু গোলকিপারকে ভুল পথে পাঠানোর কৌশল সব সময় কাজ করে না।
কেরিয়ারের শুরুর দিকে মেসি অনেক বেশি সরাসরি এবং শক্তিশালী শটে পেনাল্টি নিতেন। সময়ের সঙ্গে তাঁর পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন তিনি অনেক বেশি অপেক্ষা করেন, গোলকিপারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করেন। এতে সাফল্য যেমন এসেছে, তেমনই ব্যর্থতার ঝুঁকিও বেড়েছে।
তবে মেসিকে শুধুমাত্র পেনাল্টির পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। মাঠে তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট, পাস এবং খেলা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। পেনাল্টি স্পট থেকে কিছু ব্যর্থতা থাকলেও বড় মুহূর্তে মেসির উপর ভরসা করতেই পছন্দ করে তাঁর দল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?