মেরঠে ‘রোম্যান্স নিষিদ্ধ’
পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মেরঠ শহরে প্রেমিক যুগলদের জন্য নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। প্রথমে ওয়ো হোটেলের নিয়মে পরিবর্তন, আর এবার অটোরিকশায় প্রেমের উপর নিষেধাজ্ঞা। সম্প্রতি মেরঠের কিছু অটোরিকশায় দেখা গিয়েছে এমন ব্যানার, যেখানে লেখা রয়েছে, “এখানে প্রেম চলবে না। এটি একটি ক্যাব, আপনার ব্যক্তিগত স্থান বা ওয়ো নয়। তাই দয়া করে দূরত্ব বজায় রাখুন। সম্মান করুন, সম্মান পান।” এই লেখা থাকা ব্যানারের ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওয়ো হোটেলের নিয়মে পরিবর্তন
অবিবাহিত যুগলদের জন্য হোটেলের নিয়মে পরিবর্তন আনতে গিয়ে ওয়ো সম্প্রতি ঘোষণা করেছে, এবার থেকে তাদের হোটেলে থাকতে হলে সম্পর্কের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। এই নতুন নিয়মের সূত্রপাত হয়েছে মেরঠ শহর থেকেই। রীতেশ আগরওয়ালের এই সংস্থা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, আর আগের মতো সহজে অবিবাহিত যুগলরা তাদের হোটেলে থাকতে পারবেন না।
২০১৩ সালে ওয়ো রুমস প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি অবিবাহিত যুগলদের জন্য নিরাপদ এবং সহজে হোটেল বুকিংয়ের অন্যতম ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। কম খরচে মানসম্মত হোটেল থাকার সুযোগ করে দেওয়া ওয়োর জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল তাদের এই অবিবাহিত যুগল-বান্ধব নীতি। তবে হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ওয়ো জানিয়েছে, নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া এবং সামাজিক চাপই এই সিদ্ধান্তের মূলে।

অটো রিকশায় প্রেম নিষিদ্ধ
ওয়ো হোটেলের নিয়ম বদলের পর এবার মেরঠের কিছু অটোরিকশায় ‘রোম্যান্স নিষিদ্ধ’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ব্যানারে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি কোনো ব্যক্তিগত স্থান নয় এবং প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য অটোরিকশা সঠিক জায়গা নয়।
সমাজের প্রতিক্রিয়া
এই বিধিনিষেধ সমাজে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক মানদণ্ডের রক্ষাকবচ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকের মতে এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। সামাজিক চাপ এবং রক্ষণশীল চিন্তাধারার কারণে হোটেল এবং অটো রিকশায় এমন বিধিনিষেধের উদাহরণ উত্তর ভারতের রক্ষণশীল এলাকায় নতুন নয়।
ভারতে অবিবাহিত যুগলদের অবস্থান
ভারতে অবিবাহিত যুগলদের হোটেলে থাকতে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সরাসরি আইন নেই। তবে সামাজিক চাপ এবং কখনো কখনো স্থানীয় আইনের ভুল প্রয়োগের কারণে অনেক সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গা দিতে অনিচ্ছুক থাকে। ওয়োর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই সমস্যা দূর করতে এগিয়ে এলেও সম্প্রতি তাদের নীতির পরিবর্তন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আগে কি ছিল, এখন কী হচ্ছে
ওয়ো’র পূর্ববর্তী নীতিতে অবিবাহিত যুগলদের সম্পর্কের প্রমাণপত্র দিতে হতো না। এটি তাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ ছিল। তবে বর্তমানে ‘সম্পর্কের প্রমাণপত্র’ বাধ্যতামূলক করায় তাদের এই জনপ্রিয়তা কমার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে, মেরঠের অটোরিকশার ঘটনাটি আরও বেশি বিতর্কিত। অটো চালকদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ব্যানার লাগানো হয়েছে, নাকি এটি কোনও সংগঠনের উদ্যোগ, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ধরনের কার্যক্রম ব্যক্তি স্বাধীনতায় সরাসরি আঘাত বলেই মনে করছেন অনেকে।
সামাজিক মূল্যবোধ বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতা
এই বিতর্ক ভারতের বহু এলাকায় সামাজিক মূল্যবোধ বনাম ব্যক্তিস্বাধীনতার দ্বন্দ্বকে সামনে নিয়ে এসেছে। রক্ষণশীল সমাজের দাবি, এমন পদক্ষেপে সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। অন্যদিকে, আধুনিক চিন্তাধারার মানুষ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলেই মনে করছেন।
মেরঠে প্রেমিক যুগলদের জন্য এমন বিধিনিষেধ চালু হওয়ায় সমাজে নানা প্রশ্ন উঠছে। ওয়ো এবং অটোরিকশার এই পদক্ষেপ কি সমাজের মনোভাব পরিবর্তন করবে, নাকি ব্যক্তি স্বাধীনতার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, তা সময়ই বলে দেবে।
যাদবপুরে র্যাগিং-মৃত্যু, জামিন নাকচ: বিচার প্রক্রিয়া চলছে ১৩ জনের বিরুদ্ধে