মেট্রোর টিকিট ব্যবস্থায় শুধুমাত্র ডিজিটাল লেনদেন: যাত্রীদের ক্ষোভ এবং বিতর্ক

মেট্রোর টিকিট ডিজিটাল লেনদেন কলকাতা মেট্রোতে সাম্প্রতিক সময়ে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিজিটাল লেনদেন চালু করার নির্দেশিকা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর ১৫টি স্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ে…

November 24, 2024
1 min read

মেট্রোর টিকিট ডিজিটাল লেনদেন

কলকাতা মেট্রোতে সাম্প্রতিক সময়ে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ডিজিটাল লেনদেন চালু করার নির্দেশিকা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোর ১৫টি স্টেশনে নির্দিষ্ট সময়ে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে শুধুমাত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে টিকিট কাটার বাধ্যবাধকতা চালু করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এর ফলে যাত্রীরা নানা সমস্যায় পড়ছেন।

নতুন ব্যবস্থার সূচনা এবং প্রাথমিক সমস্যাগুলি

মেট্রো কর্তৃপক্ষের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে যাত্রীরা টিকিট কাটতে শুধুমাত্র ইউপিআই বা কিউআর কোড ব্যবহার করতে পারবেন। নগদ টিকিট লেনদেন বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী যারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নন, তারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা এবং বারবার কিউআর কোড স্ক্যান করার জটিলতায় টিকিট কাটার সময় নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া, স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিনে টাকা ফেরত দেওয়ার সুবিধা না থাকায় নগদ টাকা ব্যবহার করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

যাত্রীদের ক্ষোভ এবং বিরোধিতার সুর

নিত্যযাত্রীরা অভিযোগ করছেন, এভাবে ডিজিটাল লেনদেন বাধ্যতামূলক করা অযৌক্তিক। একজন যাত্রী বলেন, “ডিজিটাল পদ্ধতি একটি বিকল্প হতে পারে, কিন্তু এটি বাধ্যতামূলক করা কখনোই উচিত নয়।” এর ফলে স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন এবং ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার যতীন দাস পার্ক স্টেশনে যাত্রীরা মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার পি উদয়কুমার রেড্ডির কাছে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে কালীঘাট স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

কর্মী সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

মেট্রো রেলের কর্মী সংগঠনগুলি নতুন এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মেট্রো রেলের প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন অবিলম্বে এই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সতর্ক করে বলেছে, “কর্মী সঙ্কটের মধ্যে এই ধরনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না।”

বামপন্থী এবং অন্যান্য কর্মী সংগঠনগুলোও একইভাবে এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে। তারা জানিয়েছে, ডিসেম্বরে নির্বাচন শেষে বৃহত্তর আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, এই ডিজিটাল লেনদেনের ফলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমানে ১৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত লেনদেন ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে টিকিট কাউন্টার সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তবে অনেক যাত্রী এবং কর্মী সংগঠন এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। তারা বলছেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী এখনও ডিজিটাল লেনদেনের আওতায় আসেনি।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *