মুসাফির ক্যাফে’র প্রীতির বাড়ির অন্দরমহল কেমন?
‘মুসাফির ক্যাফে’ ওয়েব সিরিজ়ে প্রীতি কৌশিকের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন মহিমা মকওয়ানা। সিরিজ়ে যেমন নিজের পছন্দমতো ‘মুসাফির ক্যাফে’ সাজিয়েছিলেন প্রীতি, বাস্তব জীবনেও নিজের বাড়ির অন্দরসজ্জা নিয়ে যথেষ্ট সচেতন অভিনেত্রী। মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে রয়েছে বোহো শৈলীর ছোঁয়া, বড় জানলা, নরম আলো এবং ছোট্ট একটি কফি-কর্নার।
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন মহিমা। পরে বড়পর্দা এবং ওয়েব সিরিজ়—দুই মাধ্যমেই কাজ করেছেন তিনি। তবে ‘মুসাফির ক্যাফে’র জনপ্রিয়তা তাঁকে নতুন করে দর্শকের আলোচনায় নিয়ে এসেছে। পর্দার চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব জীবনের কিছু মিলও যেন ধরা পড়ে তাঁর বাড়ির অন্দরমহলে।
মহিমার মুম্বইয়ে দু’টি থাকার জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে একটি ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার ঝলক পাওয়া গিয়েছে ইউটিউবের একটি ভ্লগে। বাড়িতে ঢুকলেই প্রথমে চোখে পড়ে বৈঠকখানা। সাজসজ্জায় জাঁকজমকের বদলে বোহো ধাঁচের সরলতা বজায় রেখেছেন অভিনেত্রী।
ফ্ল্যাটের বড় বড় জানলা দিয়ে দিনের আলো সরাসরি ঘরে ঢোকে। অতীতে এক সাক্ষাৎকারে মহিমা জানিয়েছিলেন, বাড়ি পছন্দ করার অন্যতম কারণই ছিল পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো। সেই আলোকে কাজে লাগিয়েই সাজিয়েছেন ঘর। হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করায় সূর্যের তীব্র আলো সরাসরি না এসে নরম হয়ে গোটা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
বৈঠকখানায় রয়েছে বড় টিভি এবং আরামদায়ক সোফা। হালকা রঙের দেওয়ালের সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন জায়গায় রাখা গাছপালা অন্দরসজ্জায় এনে দিয়েছে সতেজতার ছোঁয়া। মহিমার কথায়, বাড়ির ‘মূল সদস্য’ অবশ্য তিনি নন, তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী পোষ্য পরিন্দা।
বৈঠকখানার পাশের ঘরটিও বেশ নজরকাড়া। সেখানে রঙিন দেওয়ালের সঙ্গে রয়েছে কারুকাজ করা আয়না। আলো, টেবিল এবং অন্যান্য আসবাব এমন ভাবে রাখা হয়েছে, যাতে ছোট জায়গাটিও খোলামেলা মনে হয়। এই ঘরের একটি ছোট কাঠের টেবিল বিশেষ ভাবে নজর কাড়ে। টেবিলের উপর রয়েছে সুন্দর একটি বাতিদান। জায়গাটি এমন ভাবে সাজানো যে সেখানে বসলে ছোট্ট কফি বা ডিনার ডেটের আবহ তৈরি হয়।
মহিমার ফ্ল্যাটে আরও দু’টি ঘর রয়েছে। প্রতিটি ঘরেই বড় জানলা। জানলার সৌন্দর্য বজায় রাখতে পর্দা বাছাইয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন অভিনেত্রী। একটি ঘরে রয়েছে সুতোয় কাজ করা ভাঁজ করা পর্দা। তার পাশেই শৌখিন শোকেসে রাখা রয়েছে তাঁর পাওয়া বিভিন্ন পুরস্কার ও স্মারক।
ঘরের জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার জন্য দেওয়ালজুড়ে তৈরি করা হয়েছে পাল্লা দেওয়া আলমারি। ফলে জায়গা খুব বেশি না হলেও ঘরগুলিকে বেশ পরিপাটি দেখায়। মহিমার বাড়ির অন্দরসজ্জা থেকে ছোট ফ্ল্যাটকে কী ভাবে পরিকল্পনা করে তুলনামূলক বড় এবং খোলামেলা দেখানো যায়, তারও ধারণা মেলে।
তবে অভিনেত্রীর সবচেয়ে পছন্দের জায়গা তাঁর শোয়ার ঘর। এই ঘরের দেওয়ালে রয়েছে রঙের ব্যবহার। নীল দেওয়ালে আঁকা ময়ূরের ছবি ঘরটির অন্যতম আকর্ষণ। দেওয়াল যেহেতু রঙিন, তাই বিছানার চাদর এবং কুশনের ক্ষেত্রে হালকা, একরঙা রং বেছে নিয়েছেন তিনি।
ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ঝুলন্ত ছিমছাম আলো রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নানা ধরনের আয়না। আয়না শুধু ঘরকে বড় দেখাতেই সাহায্য করে না, সঠিক ভাবে আলো ও আয়না ব্যবহার করলে ছোট ঘরও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে। মহিমার ফ্ল্যাটের সাজসজ্জায় সেই কৌশলটিই বেশ স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, ‘মুসাফির ক্যাফে’র প্রীতির মতোই মহিমার বাস্তব বাড়িতেও রয়েছে আরাম, আলো এবং নান্দনিকতার মিশেল। জাঁকজমকের বদলে ব্যক্তিত্ব ও ব্যবহারিকতার ছাপ—এই দুইয়ের ভারসাম্যই অভিনেত্রীর মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটকে আলাদা করে তুলেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।