মুম্বইয়ে ডেঙ্গিতে শিশুমৃত্যু!
বর্ষা এলেই ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে, আর এই সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। সম্প্রতি মুম্বইয়ে মাত্র সাত বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গি জ্বরে। এই ঘটনাটি শুধুই একটি ট্র্যাজেডি নয় — এটি অভিভাবকদের জন্য একটা বড় সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাস অনেক সময় দ্রুত শরীরে ছড়িয়ে পড়ে জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই শুরুতেই কিছু লক্ষণ চিনে নেওয়া, সাবধান হওয়া, এবং সময়মতো চিকিৎসা করানো খুবই জরুরি।
কোন লক্ষণগুলো দেখে বাবা-মায়েদের সতর্ক হতে হবে?
শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে বেশ কিছু উপসর্গ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। ডেঙ্গির অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল জ্বর। তবে জ্বর হলেই যে ডেঙ্গি, তা নয়। ডেঙ্গি সাধারণত সর্দি বা কাশি ছাড়াই জ্বর, সঙ্গে থাকে গা, হাত-পা ও চোখের পিছনে ব্যথা। যদি আশপাশে কেউ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার বাড়ির ৫০-১০০ মিটারের মধ্যেই এডিস মশা রয়েছে। তাই বিশেষ করে ছোটদের দিকে নজর রাখা খুব দরকার।
শুধু জ্বর নয়, ডেঙ্গির আরও কিছু গুরুতর উপসর্গ রয়েছে:
- শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেওয়া
- মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া
- ঘন ঘন বমি হওয়া
- প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
- পেট বা বুকে ব্যথা
- শ্বাসকষ্ট বা দুর্বলতা
- ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, শিশু খুব ক্লান্ত লাগা
এই উপসর্গগুলি দেখা গেলে আর দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত — বিশেষ করে ডেঙ্গি এনএস1, প্লেটলেট কাউন্ট এবং প্যাকড সেল ভলিউম (PCV) টেস্ট। ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে প্লেটলেট কমে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরে জল জমে পেটে বা বুকে চাপ তৈরি হতে পারে, যা শিশুদের ক্ষেত্রে খুব বিপজ্জনক।
চিকিৎসায় কী করবেন, কী করবেন না?
প্রাথমিকভাবে শিশুর জ্বর হলে শুধু প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই শিশুর বয়স ও ওজন অনুযায়ী। অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ একেবারেই দেবেন না, কারণ এগুলি রক্তপাতের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
প্রতিরোধের উপায় কী?
- সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা – এই সময় এডিস মশা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে। এই সময় শিশুদের বাইরে খেলতে গেলে ফুলহাতা পোশাক পরানো উচিত।
- রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস করানো খুব জরুরি।
- বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না – এডিস মশা মূলত পরিষ্কার জমা জলে ডিম পাড়ে।
- ফুলদানি, ফ্রিজের নিচের ট্রে, বাথরুমের কোণ – এগুলি নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
চিকিৎসকেরা কী বলছেন?
‘ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ’-এর চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পাল জানাচ্ছেন, শিশুদের ডেঙ্গি হলে দ্রুত লক্ষণ দেখা যায় এবং জটিল অবস্থায় পৌঁছতে সময় লাগে না। তাই শুরুতেই সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিলে বিপদ অনেকটাই এড়ানো যায়।
বাচ্চাদের প্রতি নজর রাখা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যাওয়া—এই তিনটি সতর্কতা মানলেই ডেঙ্গির মতো ভাইরাসকেও হারানো সম্ভব। অভিভাবক হিসেবে সতর্ক থাকাটাই এখন আপনার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
কয়েক সপ্তাহ ধরে নতুন অভ্যাস শুরু করেছেন সোহা আলি খান, শরীর ভালো রাখতে খালি পেটে কী খান তিনি?