মার্কিন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান!
উল্লম্বভাবে ওঠানামা থেকে শুরু করে স্টেলথ প্রযুক্তি— পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ‘এফ-৩৫’ নিয়ে আমেরিকার গর্বের শেষ নেই। অত্যাধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিদর্শন হিসেবে যুদ্ধবিমানটি বিশ্বকে তাক লাগিয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, সোভিয়েত রাশিয়ার প্রযুক্তি চুরি করেই ‘এফ-৩৫’ বানিয়েছে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
সোভিয়েতের ‘ইয়াক-১৪১’: অনুপ্রেরণা নাকি চুরি?
নিন্দুকদের দাবি, প্রায় ২৮ বছর আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৈরি করেছিল ‘ইয়াক-১৪১’ নামে একটি যুদ্ধবিমান, যা উল্লম্বভাবে ওঠানামা করতে পারত। মস্কোর প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইয়াকোভলেভ এই যুদ্ধবিমানটি তৈরি করেছিল।
সোভিয়েত নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে মোতায়েনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত হয়েছিল ‘ইয়াক-১৪১’। ১৯৮৭ সালের ৯ মার্চ এই বিমানটি প্রথম আকাশে ওড়ে, যা সেসময় প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
গোপন চুক্তি ও বিতর্ক
সোভিয়েত পতনের পর মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিন এবং ইয়াকোভলেভের মধ্যে একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সোভিয়েত যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি ও নকশা হাতিয়ে নেয়।
‘দ্য ইউরেশিয়ান টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত এই চুক্তির খবর গোপন রাখা হয়। এমনকি ‘ইয়াক-১৪১’-এর প্রোটোটাইপ উন্নয়নে বিপুল অঙ্কের অর্থও বিনিয়োগ করে লকহিড মার্টিন। এরপরই তৈরি হয় ‘এফ-৩৫’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকার
যদিও লকহিড মার্টিন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির দাবি, ‘এফ-৩৫’-এর নকশা এবং প্রযুক্তি সম্পূর্ণ মৌলিক এবং স্বাধীন গবেষণার ফসল। সোভিয়েত প্রযুক্তি চুরির অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে।
‘কিল সুইচ’ বিতর্ক
সম্প্রতি আরও একটি বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে। জার্মানি দাবি করেছে, ‘এফ-৩৫’ এ এমন একটি ‘কিল সুইচ’ রয়েছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে এই সুইচ সক্রিয় করে দিলে বিমানটিকে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব। ফলে মার্কিন মিত্র দেশগুলিও এই বিমানের ব্যবহার নিয়ে শঙ্কিত।
ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
মার্কিন যুদ্ধবিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে এই বিতর্ক বড় ধাক্কা হতে পারে। এতদিন প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ শুধু চীনের বিরুদ্ধে উঠত। কিন্তু এবার সেই একই অভিযোগের তীর ধেয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেও। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিতর্ক ‘এফ-৩৫’-এর বিশ্বব্যাপী বিক্রয় এবং গ্রহণযোগ্যতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
যুদ্ধবিমান প্রযুক্তির এই কূটনৈতিক নাটক কী মোড় নেবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে এটি নিশ্চিত যে, সোভিয়েত প্রযুক্তির ছায়া থেকে মুক্তি পাওয়া লকহিড মার্টিনের জন্য সহজ হবে না।