ভেঙে পড়েছিলেন ভারতী!
দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে সংসারে খুশির হাওয়া বইছেই। কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল গভীর উৎকণ্ঠা আর ভয়। কৌতুকশিল্পী ভারতী সিংহ সম্প্রতি দ্বিতীয় বার মা হয়েছেন। পরিবারে নতুন সদস্য আসায় স্বাভাবিক ভাবেই আনন্দে ভরপুর তাঁর ঘর। তবে সন্তানের জন্মের ঠিক আগের মুহূর্তগুলির কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি ভারতী। স্মৃতিচারণ করতে গিয়েই তাঁর চোখে জল চলে আসে।
ভারতী জানিয়েছিলেন, দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি মনে মনে আশা করেছিলেন কন্যাসন্তান আসবে। কিন্তু এ বারও তাঁর কোলে এসেছে পুত্রসন্তান। তা সত্ত্বেও সন্তানের সুস্থ জন্মই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। কিন্তু এই সুখের আগে যে ভয়ানক মানসিক চাপ আর শারীরিক অস্বস্তির মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছিল, সে কথা সহজে ভুলতে পারছেন না তিনি।
সন্তান জন্মের দিন সকালের ঘটনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতী জানান, ভোরের দিকে হঠাৎই তাঁর ‘ওয়াটার ব্রেক’ হয়ে যায়। ঘুম ভেঙে তিনি দেখেন, বিছানা ও জামাকাপড় সম্পূর্ণ ভিজে গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে তিনি বুঝে যান পরিস্থিতি গুরুতর। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চিকিৎসক দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছোনোর নির্দেশ দেন।
ভারতী বলেন, “সেই মুহূর্তে আমি সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সারা শরীর কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল, হঠাৎ সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।” আগের রাত থেকেই তাঁর শরীর ভাল লাগছিল না। তিনি আগেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু সকালের এই আকস্মিক পরিস্থিতি তাঁকে আরও বেশি আতঙ্কিত করে তোলে।
তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে পৌঁছোনোর সময়ও তাঁর মাথায় নানা আশঙ্কা ঘুরছিল। সন্তানের সুস্থতা, নিজের শারীরিক অবস্থা— সব মিলিয়ে মানসিক চাপ চরমে পৌঁছেছিল। ভারতী বলেন, “আমি সব সময় নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু সেই দিন সত্যিই ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল, কী হবে জানি না।”
অবশেষে নির্ধারিত সময়েই তাঁর সন্তানের জন্ম হয়। যদিও জন্মের পরও কিছু সময়ের জন্য নবজাতককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। সেই সময়টুকুও ভারতীর কাছে ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। সন্তানের দিকে তাকিয়ে থেকেও তাঁর মনে ভয় কাজ করছিল— সব ঠিক তো? ধীরে ধীরে চিকিৎসকেরা আশ্বস্ত করলে তাঁর মন কিছুটা শান্ত হয়।
এই পুরো অভিজ্ঞতা ভারতীকে মানসিক ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। হাসি আর মজার আড়ালে যে মাতৃত্বের পথ কতটা কঠিন হতে পারে, তা তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন, একজন মা হওয়ার আনন্দ যেমন অপরিসীম, তেমনই সন্তান জন্মের আগে এবং পরে ভয়, দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মুহূর্তও কম নয়।
অক্টোবর মাসে দ্বিতীয় বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছিলেন ভারতী। স্বামী হর্ষের সঙ্গে তোলা ছবিতে তাঁদের চোখেমুখে ছিল আনন্দ আর প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবে সন্তানের জন্মের দিন সেই প্রত্যাশার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল ভয় আর অজানা আশঙ্কা।
এখন অবশ্য সবটাই কাটিয়ে উঠেছেন ভারতী। সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন তিনি ও হর্ষ। পরিবারে নতুন অতিথির কান্না, হাসি আর ছোট ছোট মুহূর্তে ভরে উঠছে তাঁদের জীবন। তবে মাতৃত্বের এই নতুন অধ্যায়ে পা রাখার আগে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা আজও তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে রেখেছে।