কৌশলে পাল্টা চাল বিজেপির!
বাংলার রাজনীতিতে মাছ নতুন কিছু নয়—কিন্তু এ বার যেন তা ভোটের অন্যতম ইস্যু হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর মন্তব্য—“বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে”—এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে পাল্টা কৌশল নিয়েছে বিজেপি। লক্ষ্য একটাই—বাঙালির কাছে নিজেদের ‘মাছেভাতে বাঙালি’ পরিচয় আরও জোরালো করা।
তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপিকে ‘বাঙালি সংস্কৃতি-বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। কখনও ‘বহিরাগত’ তকমা, কখনও আবার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রশ্ন—সব মিলিয়ে একধরনের রাজনৈতিক বার্তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি সরাসরি তর্কে না গিয়ে অন্য পথ বেছে নিয়েছে—প্রচারে তুলে ধরা হচ্ছে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ছবি।
প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-এর মতো নেতাকে দেখা যাচ্ছে খড়্গপুরের মাছবাজারে। শুধু ঘোরা নয়, মাছ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা, সেই ছবি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া—সব মিলিয়ে একেবারে ‘গ্রাউন্ড কানেক্ট’ তৈরি করার চেষ্টা। জানা যায়, ছোট মাছ তাঁর বিশেষ পছন্দ, এমনকি অবসর পেলে নিজেই ছিপ ফেলে মাছ ধরতেও ভালোবাসেন তিনি।
শুধু তিনিই নন, অন্যান্য বিজেপি প্রার্থীরাও এই পথে হাঁটছেন। রাজারহাট-গোপালপুরের প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি কিংবা বিধাননগরের চিকিৎসক-প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়—দু’জনকেই দেখা গিয়েছে মাছ হাতে প্রচার করতে। কেউ বাজারে গিয়ে মাছ কিনছেন, কেউ আবার মাছভাত খেতে খেতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। বার্তাটা স্পষ্ট—বিজেপি বাঙালির খাবার নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ চায় না।
এই প্রচারের পেছনে যে কেন্দ্রীয় স্তরের পরামর্শ রয়েছে, তা রাজনৈতিক মহলে মোটামুটি স্পষ্ট। বিজেপি নেতৃত্ব বুঝেছে, খাদ্যাভ্যাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। তাই সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে বাস্তব ছবিই তুলে ধরার কৌশল নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল এই প্রচারকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েনি। দলের নেতাদের বক্তব্য, এটি আসলে ‘ইমেজ ম্যানেজমেন্ট’। সুযোগ পেলে বিজেপি খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে পারে—এই ধারণা থেকেই তারা এখন বাঙালিয়ানা দেখানোর চেষ্টা করছে।
তবে মজার বিষয় হল, সব জায়গায় এই কৌশল সমান ভাবে কার্যকর হচ্ছে না। শহরাঞ্চল বা শহরতলিতে মাছ নিয়ে প্রচার বেশি নজরে পড়লেও, গ্রামীণ এলাকায় ভোটের ইস্যু ভিন্ন। সেখানে সেচ, রাস্তা, ফসলের দাম বা পানীয় জলের মতো সমস্যাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে কিছু প্রার্থী এই ‘মৎস্য-কৌশল’কে ততটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
সব মিলিয়ে, বাংলার ভোটের ময়দানে মাছ এখন শুধুই খাবার নয়—একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতীক। কে কতটা ‘বাঙালি’, কে কতটা ‘ঘরের লোক’—এই লড়াইয়ে মাছ যেন হয়ে উঠেছে এক নতুন অস্ত্র। আর সেই লড়াইয়ে দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে ‘স্বাদ’ বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না