মস্কোর নজর এড়িয়ে ‘মাটি ঘেঁষে’ ছুটছে ইউক্রেনের ফ্লেমিঙ্গো!
রাশিয়ার ভূখণ্ডের অনেকটা ভিতরে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেনের হাতে উঠে এসেছে নতুন অস্ত্র। এফপি-৫ ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। দীর্ঘ পাল্লা, বড় ওয়ারহেড এবং অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতাই এই অস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য বলে দাবি ইউক্রেনের।
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ফায়ার পয়েন্টের তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের অগস্টে। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর নিজেদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে সামরিক ক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে ফ্লেমিঙ্গো তৈরির কাজ শুরু করে সংস্থাটি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কিও একাধিক বার এই অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন।
ফ্লেমিঙ্গোর নাম নিয়েও রয়েছে মজার গল্প। একটি সূত্রের দাবি, উৎপাদনের শুরুর দিকে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে গোলাপি রং দেখা যাওয়ার পর থেকেই ‘ফ্লেমিঙ্গো’ নামটি জনপ্রিয় হয়। তবে ফায়ার পয়েন্টের কর্তারা এই ব্যাখ্যা মানেননি।
এই ক্ষেপণাস্ত্রের সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য তার নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার ক্ষমতা। ইউক্রেনীয় সূত্রের দাবি, মাটি থেকে মাত্র কয়েক দশ মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এটি। ফলে প্রচলিত রাডারের নজর এড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রয়োজন অনুযায়ী উড়ানের পথও বদলাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।
ফ্লেমিঙ্গোর পাল্লা প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এর ওয়ারহেডের ওজন প্রায় ১,১৫০ কেজি। উপগ্রহ-নির্ভর নির্দেশনা, ইনার্শিয়াল নেভিগেশন এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তির সমন্বয় রয়েছে বলেও ইউক্রেনীয় পক্ষের দাবি।
চলতি বছরের জুনে রাশিয়ার ভূখণ্ডে ১,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব পেরিয়ে ফ্লেমিঙ্গো হামলা চালিয়েছে বলে দাবি কিভের। একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকেন্দ্রে হামলার কথাও সামনে এসেছে। মস্কোর প্রকাশ করা ভিডিয়োয়ও ক্ষেপণাস্ত্রটির ধ্বংসাবশেষ দেখা গিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে ফ্লেমিঙ্গোর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আকারে এটি যথেষ্ট বড় এবং গতি শব্দের চেয়ে কম। ফলে শত্রুপক্ষের রাডার এক বার সেটিকে শনাক্ত করতে পারলে প্রতিরোধের জন্য তুলনামূলক বেশি সময় পেতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এটি স্টেলথ অস্ত্র নয় এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ঝুঁকিও রয়েছে।
প্রায় ১৪ মিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ৬ মিটার ডানাবিশিষ্ট এই ক্ষেপণাস্ত্রের আকার অনেকটা বাসের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এর দাম কয়েক লক্ষ ডলার থেকে প্রায় ১০ লক্ষ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ফায়ার পয়েন্ট জানিয়েছিল, মাসে প্রায় ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রয়েছে তাদের। ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও ছিল।
রুশ হামলায় ইউক্রেনের একটি উৎপাদনকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কিভ জানিয়েছে, ফ্লেমিঙ্গোর উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে এই ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে, সেটিই এখন দেখার। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে দূরপাল্লার নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে ‘গোলাপি পাখি’—এ নিয়ে সন্দেহ নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।