মধ্যমগ্রামের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে রায় ঘোষণা: প্রেমিক খুনের দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন, স্ত্রীর ৫ বছরের জেল

মধ্যমগ্রামের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে রায় ঘোষণা! সাত বছর পুরনো এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে শেষমেশ রায় ঘোষণা করল বারাসত জেলা আদালত। স্বামী জাকির হোসেনকে প্রেমিক খুন এবং প্রমাণ লোপাটের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া…

August 29, 2025
0 min read

মধ্যমগ্রামের নারকীয় হত্যাকাণ্ডে রায় ঘোষণা!

সাত বছর পুরনো এক ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে শেষমেশ রায় ঘোষণা করল বারাসত জেলা আদালত। স্বামী জাকির হোসেনকে প্রেমিক খুন এবং প্রমাণ লোপাটের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী আর্জিনা বিবিকেও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণা করেন জেলা আদালতের বিচারক দীপালি শ্রীবাস্তব।

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর। উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ যোজরা গ্রামে সেদিন একা ছিলেন গৃহবধূ আর্জিনা বিবি। স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে তিনি ঘরে ডেকে আনেন তাঁর প্রেমিক আব্দুল হাসানকে। ঠিক তখনই আচমকা বাড়ি ফিরে আসেন জাকির। স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে তিনি স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। সেই মুহূর্তে আর্জিনা নিজের সুরক্ষার জন্য চমকপ্রদ দাবি করে বসেন— স্বামীকে বলেন, আব্দুল তাঁকে জোর করে যৌন হেনস্থা করেছে।

হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জাকির। বচসার জেরে রাগের মাথায় তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আব্দুলকে। খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন দম্পতি। তারা মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে পাশের নোয়াই খালে ফেলে দেয়। মৃতদেহের মাথাটি আলাদা করে গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়।

ওই রাতেই আব্দুলের পরিবার তাঁর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জানায় মধ্যমগ্রাম থানায়। পরের দিন নোয়াই খাল থেকে দেহাংশ উদ্ধার হয়, এবং তদন্তে দম্পতির নাম উঠে আসে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে দুজনেই খুনের ঘটনা স্বীকার করে নেয়। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ সাত বছরের মামলা, যেখানে মোট ১৯ জন সাক্ষী এবং প্রচুর প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়।

অবশেষে বৃহস্পতিবার আদালত দোষী সাব্যস্ত করে জাকির ও আর্জিনাকে। শুক্রবার রায় ঘোষণায় জাকিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; জরিমানা না দিলে অতিরিক্ত এক বছর কারাবাস ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে আর্জিনাকে পাঁচ বছরের জেল এবং ১০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হবে।

সরকারি আইনজীবী সন্দীপ চট্টোপাধ্যায় ঘটনাটিকে “অত্যন্ত ন্যক্কারজনক” বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, খুন, প্রমাণ লোপাট এবং যৌথ অপরাধ পরিকল্পনা—এই তিনটি ধারায় দোষীদের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই রায় সমাজে একটি বড় বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তিনি।

এই মামলার নিষ্পত্তি সাত বছরের দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ঘটলেও, গ্রামবাসী এবং মৃতের পরিবার আজ কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছে।

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে সহজ জয় রাডুকানু ও আজ়ারেঙ্কার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *