মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে স্ত্রীর চোখের সামনে জঙ্গিদের গুলিতে স্বামীর মৃত্যু!
মাত্র দু’মাস আগে বিয়ে করেছিলেন শুভম দ্বিবেদী ও ঐশ্বন্যা। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতেই পাড়ি দিয়েছিলেন স্বপ্নের ভূস্বর্গ কাশ্মীরে। উদ্দেশ্য—একটি মধুর মধুচন্দ্রিমা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এক লহমায় রূপ নেয় বিভীষিকায়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানায় স্ত্রীর চোখের সামনেই প্রাণ হারান শুভম। ঐশ্বন্যা হয়ে পড়েন নববধূ থেকে এক বিধবা!
৩১ বছর বয়সি শুভম পেশায় ছিলেন কানপুরের এক সিমেন্ট ব্যবসায়ী। স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ১৬ এপ্রিল তিনি গিয়েছিলেন কাশ্মীর ভ্রমণে। তাদের সফরের শেষদিন ছিল মঙ্গলবার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার দিল্লি হয়ে বাড়ি ফেরার কথা। কিন্তু সে দিনই দুপুরে পহেলগাঁওয়ের বৈসরন এলাকায় ঘটে যায় সেই ভয়ঙ্কর হামলা।
পাহাড়, পাইন বন, জাফরান আর আপেলের বাগানে ঘেরা ‘মিনি সুইৎজ়ারল্যান্ড’ খ্যাত এই এলাকা সেই সময় ছিল পর্যটকে গিজগিজে। কেউ হাঁটছিলেন, কেউ ঘোড়ায় চড়ছিলেন। ঠিক তখনই ছদ্মবেশে উপস্থিত হয় জঙ্গিরা। কারও পোশাক পুলিশের, কারও বা সেনার। সকলের হাতে একে-৪৭। মুহূর্তে শান্ত পাহাড়ি উপত্যকা কেঁপে ওঠে গুলির শব্দে আর আর্তনাদে।
চোখের সামনে স্বামীকে হারিয়ে শোকে অজ্ঞান হয়ে যান ঐশ্বন্যা। কিছুক্ষণ পর নিজেই ফোন করে শ্বশুরকে জানান এই মর্মান্তিক ঘটনার কথা। শুভমের তুতো ভাই সৌরভ জানান, জঙ্গিরা পর্যটকদের নাম জিজ্ঞাসা করে, তারপর একে একে গুলি করে হত্যা করে। শুভমের নাম জানার পর সরাসরি তাঁর কপালে গুলি চালায় তারা।
শুধু শুভম নন, সেই দিনে প্রাণ হারান আরও অনেক পর্যটক। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট, কর্নাটক, তামিলনাড়ু ও ওড়িশার বাসিন্দারা। পশ্চিমবঙ্গের নিহতদের মধ্যে আছেন কলকাতার সমীর গুহ ও বিতান অধিকারী এবং পুরুলিয়ার মণীশরঞ্জন মিশ্র।
শুধু ব্যবসায়ী নয়, এক নৌসেনা লেফটেন্যান্টও প্রাণ হারান সেই হামলায়। সদ্যবিবাহিত বিনয় ও তাঁর স্ত্রী হিমাংশীও গিয়েছিলেন মধুচন্দ্রিমায় কাশ্মীরে। ইউরোপ যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাঁরা কাশ্মীর বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বৈসরনের এক রেস্তোরাঁয় বসে ভেলপুরি খেতে খেতে হঠাৎই বিনয়ের গায়ে গুলি চালায় জঙ্গিরা। হিমাংশীকে বাঁচিয়ে রাখে তারা—শুধু শরীর নয়, তাঁর মনও রক্তাক্ত হয়ে যায়।
এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। গোটা উপত্যকা জুড়ে শোকের ছায়া। ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এই শান্তির ভূস্বর্গ কি আদৌ নিরাপদ?
স্বপ্ন দেখতে এসেছিলেন নবদম্পতিরা, ফিরলেন মৃত্যুর খবরে মোড়া এক দুঃস্বপ্ন নিয়ে। কাশ্মীরের আকাশে আবারও ছড়িয়ে পড়ল রক্তের গন্ধ—আর এক নববধূ হয়ে গেলেন বিধবা, মাত্র দু’মাসের দাম্পত্যজীবনের শেষে।
দেশ ছেড়ে কাতারে সংসার? সইফ-করিনার নতুন জীবন শুরু হতে চলেছে!