একসঙ্গে বিজেপি ও আরএসএস
বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গন আবারও গরম হতে শুরু করেছে। রাজ্যে ভোটের ঢোল বাজতেই বিজেপি হিন্দুত্বকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে সামনে আনছে। আর সেই কৌশলে বড় জায়গা নিচ্ছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ। আইনটি কার্যকর হলেও বিজেপি এবং আরএসএস মনে করছে—এখনও লক্ষ্য পূর্ণ হয়নি। তাই এবার সরাসরি যৌথ অভিযানের রূপরেখা তৈরি করছে এই দুই সংগঠন।
বৃহস্পতিবার বিধাননগরের একটি হোটেলে বসে বিশেষ বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি এবং আরএসএস—দুই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। বিজেপির তরফে ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বিএল সন্তোষ, সাংসদ জগন্নাথ সরকার, বিধায়ক দীপক বর্মণ, সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়সহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধি। আরএসএস-এর পক্ষ থেকে এসেছিলেন সর্বভারতীয় স্তরের পদাধিকারী প্রদীপ যোশী, রমাপদ পাল, জলধর মাহাতো, জিষ্ণু বসুর মতো নেতারা, যাঁরা পূর্ব ভারতের বিভিন্ন দায়িত্ব সামলান।
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সিএএ। সূত্রের খবর, আলোচনায় জোর দেওয়া হয়েছে—যাঁরা সিএএ-র আওতায় পড়ছেন, তাঁদের দ্রুত নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার দিকে। আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া যেন সহজ হয় এবং উদ্বাস্তুদের মধ্যে ভয়-ভীতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ কর্মপন্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বিজেপি ও আরএসএস যৌথভাবে এই কাজ করবে। এমনকি আরএসএস-এর ছাতার তলায় থাকা বিভিন্ন সংগঠনও এই অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা নেবে।
তবে বিজেপির ভূমিকা নিয়েই বৈঠকে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। কার্যত মূল দায়িত্ব বিজেপির উপরই বর্তাবে। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ—এই তিন অঞ্চলে উপস্থিত বিজেপি প্রতিনিধিরাই প্রত্যেক এলাকায় কার্যক্রম দেখভাল করবেন বলে জানা গিয়েছে।
শুধু সিএএ নয়, বৈঠকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচনের আগে এই উদ্যোগে বিশেষ নজর দিতে চাইছে দুই সংগঠন।
আসলে বাংলায় বাঙালি উদ্বাস্তুদের ইস্যু সবসময়েই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তৃণমূল এই প্রশ্নে বিজেপিকে একাধিকবার ‘চাপে’ ফেলেছে। তাই পাল্টা কৌশল হিসেবে বিজেপি ভোটের আগে সিএএ-কে হাতিয়ার বানাতে চাইছে। আরএসএস এই প্রচারে বিজেপির সঙ্গে থাকছে—যা ভোটের আগে জোরদার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অবশ্য বিজেপি-আরএসএস সমন্বয়ের বৈঠক নতুন নয়। নিয়মিতই নির্দিষ্ট সময় অন্তর তা হয়। কিন্তু এ দিনের বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ, এত উচ্চস্তরের প্রতিনিধিত্ব সচরাচর দেখা যায় না। রাজনৈতিক মহলের মতে, জরুরি ভিত্তিতে আকাশে-বাতাসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে—এই বৈঠক শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার ছিল না, বরং নির্বাচনের আগে বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সূচনা।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটমুখী বাংলায় বিজেপি ও আরএসএস হাতে হাত রেখে সিএএ-কে সামনে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রভাব যে যথেষ্ট বড় হতে পারে, সে ব্যাপারে সংশয় নেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ