ভোটার তালিকা নিয়ে ‘শুনানি-হয়রানি’র অভিযোগ: মানুষের পাশে দাঁড়াতে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার বার্তা মমতার

ভোটার তালিকা নিয়ে ‘শুনানি-হয়রানি’র অভিযোগ! ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্যে যে ভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করবেন— এমনই…

January 6, 2026
1 min read

ভোটার তালিকা নিয়ে ‘শুনানি-হয়রানি’র অভিযোগ!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্যে যে ভাবে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করবেন— এমনই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গঙ্গাসাগরের এক সরকারি কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই কোনও রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য নয়, মানুষের অধিকারের জন্য। দরকার হলে আইনজীবী পরিচয়ে নয়, একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তিনি শীর্ষ আদালতে কথা বলবেন।

মমতার এই ঘোষণার পরেই বিষয়টি আইনি পথে এগিয়ে নিয়ে গেল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেন। তাতে আবেদনকারী হিসেবে নাম রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনের। মামলার মূল বক্তব্য— এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।

গঙ্গাসাগরে সেতুর শিলান্যাসের পর মমতা জানান, এসআইআর-এর পর রাজ্যের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, “খুনিদেরও নিজের হয়ে সওয়াল করার অধিকার থাকে। সেখানে সাধারণ মানুষ কেন নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হবেন?” তিনি অভিযোগ করেন, কৃত্রিম মেধা বা এআই ব্যবহার করে যান্ত্রিক ভাবে ঠিক করা হচ্ছে কার নাম থাকবে, কার বাদ যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরাও আইনের দ্বারস্থ হচ্ছি। আদালত খুললেই আমরা যাব। এত মানুষকে যে ভাবে অপমান করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে।” প্রয়োজনে তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে অনুমতি চেয়ে মানুষের হয়ে যুক্তি তুলে ধরবেন বলেও জানান।

এসআইআর নিয়ে তৃণমূলের আইনি প্রস্তুতি অনেক দিন ধরেই চলছিল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, কমিশনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেও কমিশনকে চিঠি লিখে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাবেন, যা ভবিষ্যতে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ ডেকে আনবে।

এসআইআর প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশিকা চালানো হচ্ছে, লিখিত নিয়ম মানা হচ্ছে না। বয়স্ক মানুষ, অসুস্থ ব্যক্তি, এমনকি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদেরও শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কোথাও আধার কার্ড, কোথাও জাতিগত শংসাপত্র— কোনও নথিই নাকি গ্রহণ করা হচ্ছে না। বিয়ের পর পদবি বা ঠিকানা বদলানোর কারণে বহু মহিলার নাম কাটা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

মমতার মতে, এসআইআর কোনও তাড়াহুড়োর বিষয় নয়। দু’বছর সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “এত মানুষ মারা যাচ্ছেন, কেউ আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন— একবারও কি কারও মন কাঁদে না?” বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ‘ভ্যানিশ’ করলে শেষ পর্যন্ত তার জবাব মানুষই দেবে— জন আদালত, গণ আদালতেই হবে সেই বিচার।

এ দিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে লড়তে চাইলে সেখানে গিয়ে লড়ুন। বাংলার মানুষকে উত্ত্যক্ত করবেন না।”

এসআইআর নিয়ে এই টানাপড়েন যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে মমতার বার্তা স্পষ্ট— এই লড়াই রাজনীতির নয়, মানুষের অধিকারের।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *