ভূমেরু হেলদোল! পৃথিবীর চৌম্বক মেরু বদলের নেপথ্যে নাকি মানুষের তৈরি বাঁধ!

পৃথিবীর চৌম্বক মেরু বদলের নেপথ্যে নাকি মানুষের তৈরি বাঁধ! বিজ্ঞান জানায়, পৃথিবীর চৌম্বক মেরু কখনও এক জায়গায় স্থির থাকে না। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে…

July 23, 2025
1 min read

পৃথিবীর চৌম্বক মেরু বদলের নেপথ্যে নাকি মানুষের তৈরি বাঁধ!

বিজ্ঞান জানায়, পৃথিবীর চৌম্বক মেরু কখনও এক জায়গায় স্থির থাকে না। উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর অবস্থান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই পরিবর্তনের পিছনে শুধু প্রাকৃতিক কারণই নয়, দায়ী হতে পারে মানুষের হাতেও তৈরি কিছু প্রকল্প—বিশেষত বিশাল জলাধার বা বাঁধ। শুনে অবাক লাগলেও, এই তথ্য এখন গবেষণার আলোয়।

এই গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গত কয়েক দশকে তৈরি হওয়া বিশ্বের বৃহত্তম জলাধারগুলির মধ্যে অন্যতম, চিনের ‘থ্রি গর্জেস ড্যাম’। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের বাঁধ নির্মাণের ফলে বিশাল পরিমাণ জল এক জায়গায় জমা হয়, যার কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণনের ভারসাম্যে সামান্য হলেও পরিবর্তন ঘটে। আর সেই পরিবর্তনই প্রভাব ফেলছে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের উপরেও।

জলাধারে জমা জলের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে তা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ এবং ঘূর্ণনের অক্ষরেখা—দুটিতেই প্রভাব ফেলতে পারে। এই গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৩০,০০০ কোটি টন জল যখন একসঙ্গে আটকে রাখা হয় কোনও এক স্থানে, তখন তার প্রভাব পড়ে পৃথিবীর ভৌগলিক ও চৌম্বক মেরুর গতিপথে।

গবেষকরা বলছেন, ১৯৯০-এর দশক থেকে উত্তর চৌম্বক মেরুর সরে যাওয়ার গতি হঠাৎ করেই বেড়ে গিয়েছে। যেখানে আগে বছরে ১৫ কিমি হারে সরত, এখন সেটা ৫০ কিমি পর্যন্ত ছুঁয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তীব্র গতিবৃদ্ধির পিছনে বড় ভূমিকা থাকতে পারে বাঁধের কারণে হওয়া জলবায়ু ভারসাম্যের পরিবর্তনের।

তবে বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। বিজ্ঞানীরা আরও জানাচ্ছেন, শুধু জলাধার নয়, ভূমির উপরে ও নীচে মানুষের হস্তক্ষেপ যেমন—প্রচুর ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন, বনাঞ্চল ধ্বংস, মাটি সরিয়ে গঠন পরিবর্তন—এসবও পৃথিবীর ‘মাস রিডিস্ট্রিবিউশন’-এ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বিশাল ভর স্থানান্তর হলে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পৃথিবীর ঘূর্ণনের উপর, আর তার সঙ্গেই যুক্ত চৌম্বক ক্ষেত্র।

এই গবেষণায় উঠে এসেছে আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য—মানুষের কার্যকলাপের কারণে পৃথিবীর মেরু শুধু সরে যাচ্ছে না, মেরু বদলের সম্ভাবনাও জোরালো হচ্ছে। ইতিহাস বলে, পৃথিবীর চৌম্বক মেরু গত ৭ লাখ বছরে বহুবার বদলেছে। তবে তা ঘটেছে লক্ষ লক্ষ বছরে একবার করে। কিন্তু এখন সেই গতি অনেক বেশি দ্রুত—এবং সেটা আদতে প্রাকৃতিক নিয়ম, না মানবসৃষ্ট পরিবর্তনের ফল, তা নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই গবেষণার উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট প্রকল্পকে দায়ী করা নয়, বরং দেখানো যে মানুষ কীভাবে অজান্তেই প্রকৃতির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে জলাধার, নগরায়ণ বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং নিয়ে যে কোনও পরিকল্পনার আগে এই দিকগুলো বিবেচনা করা জরুরি।

পৃথিবী আপন গতিতে ঘোরে ঠিকই, কিন্তু মানুষ তার ভারসাম্য নাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে বহু আগেই। সেই ছোট ছোট বদল একদিন হয়তো প্রকৃতির বিরাট পরিবর্তনের কারণ হয়ে উঠবে। তাই সময় থাকতে বুঝে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার ছবি, খোলাখুলি রোম্যান্সে মশগুল সোনাক্ষী-জহির

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *