ভুয়ো সাধুদের খুঁজে বের করতে উত্তরাখণ্ডে ‘অপারেশন কালনেমি’!
হরিদ্বার কিংবা ঋষিকেশের ঘাটে-ঘাটে কিংবা পাহাড়ি আশ্রমে আপনি যাঁদের দেখছেন— সকলেই কি সত্যিই সাধু? এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরাখণ্ড প্রশাসনের মাথায়। কারণ, বহু ভুয়ো সাধু ভিড়ে গা ভাসিয়ে রাজ্যজুড়ে নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ। আর সেই কারণেই এবার উত্তরাখণ্ড সরকার শুরু করেছে ‘অপারেশন কালনেমি’। এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য, সাধুর ভিড়ে থাকা ভুয়ো সাধুদের চিহ্নিত ও গ্রেফতার করা।
অপারেশনটির নাম শুনেই বোঝা যায় এর তাৎপর্য। ‘কালনেমি’ রামায়ণের এক চরিত্র— রাবণের অনুচর, যে সাধুর ছদ্মবেশে হনুমানকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল। সেই ভাবনা থেকেই নাম দেওয়া হয়েছে এই বিশেষ অভিযান।
উত্তরাখণ্ডে প্রশাসন এবং পুলিশ যৌথভাবে এই অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে হরিদ্বার, ঋষিকেশ, দেবপ্রয়াগ, কেদারনাথ এবং বদ্রীনাথের মতো তীর্থক্ষেত্রগুলিতে এই অভিযান চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জন ভুয়ো সাধুকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।
কীভাবে চলছে অপারেশন কালনেমি?
মূলত, যাঁরা নিজেদের সাধু বলে দাবি করেন, তাঁদের পরিচয়পত্র ও অতীত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, ভুয়ো সাধুরা কোনও সরকারি নথি ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ আবার অন্য রাজ্য থেকে এসে এখানে আশ্রম খুলে বসেছেন। সন্দেহভাজনদের আশ্রমে হানা দিয়ে সেখানকার অবৈধ কাজকর্ম, মাদক বা অস্ত্র থাকা ইত্যাদি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, হরিদ্বারের ‘অখিল ভারতীয় অখাড়া পরিষদ’-এর পক্ষ থেকেও একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল, সাধুর ছদ্মবেশে অনেকে চুরি, প্রতারণা এমনকি নারী পাচারের মতো অপরাধেও যুক্ত। সেই সব অভিযোগের ভিত্তিতেই অপারেশন কালনেমির পরিকল্পনা।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি নিজে এই অভিযানের তদারকি করছেন। তিনি জানিয়েছেন, “উত্তরাখণ্ড হল দেবভূমি। এখানে ধর্মের নামে কোনও ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করা হবে না। সাধু-সন্ন্যাসীদের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।”
তবে প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত সাধুদের প্রতি কোনও ধরনের অসম্মান করা হচ্ছে না। এই অভিযানে শুধুমাত্র ভুয়ো সাধুদের চিহ্নিত করা হচ্ছে, যারা অপরাধে যুক্ত। ধর্মীয় স্থানগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছেও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। অনেক সময় তীর্থযাত্রায় এসে ভুয়ো সাধুদের হাতে প্রতারিত হয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া যেত। সেই প্রবণতা রুখতেই এমন কড়া পদক্ষেপ।
প্রশাসনের মতে, অপারেশন কালনেমি চলবে যত দিন না রাজ্যজুড়ে সমস্ত ভুয়ো সাধুকে খুঁজে বের করা যায়। ফলে আগামী দিনগুলিতে উত্তরাখণ্ডে সাধু-সন্ন্যাসীদের ওপর নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।
ধর্মের নামে অপরাধ রুখে, প্রকৃত আস্থাকে সম্মান জানানোর এই প্রয়াস অনেকের কাছেই প্রশংসিত হয়েছে।