গভীর রাতে ফের মেঘভাঙা বৃষ্টি, চামোলিতে ধুয়েমুছে গেল গ্রাম – নিখোঁজ অন্তত সাত

নিখোঁজ অন্তত সাত উত্তরাখণ্ডে আবারও ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি। বুধবার গভীর রাতে চামোলি জেলায় তাণ্ডব চালাল প্রকৃতির রুদ্ররূপ। প্রবল বর্ষণে নন্দনগর এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ধুয়েমুছে যায় গোটা গ্রাম। কাদা, পাথর আর…

September 18, 2025
1 min read

নিখোঁজ অন্তত সাত

উত্তরাখণ্ডে আবারও ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টি। বুধবার গভীর রাতে চামোলি জেলায় তাণ্ডব চালাল প্রকৃতির রুদ্ররূপ। প্রবল বর্ষণে নন্দনগর এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ধুয়েমুছে যায় গোটা গ্রাম। কাদা, পাথর আর জল মিশে ভয়ঙ্কর স্রোতে গ্রাস করে নেয় একাধিক ঘরবাড়ি। অন্তত ছ’টি বাড়ি খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ সাত জন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দুই জনকে উদ্ধার করা গেলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও অনেকে চাপা পড়ে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত গভীর হওয়ার পর আচমকাই আছড়ে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসে কাদা-মাটির বিশাল স্রোত। প্রবল বেগে নেমে আসা এই ধ্বংসস্তূপ গ্রাস করে নেয় গোটা গ্রামকে। মানুষজন ঘুমের ঘোরেই বিপর্যয়ের শিকার হন। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে পালানোর চেষ্টা করলেও কাদামাটির ঢল থেকে বেরোতে পারেননি।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাতেই উদ্ধার অভিযান শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা বাধার মুখে পড়ছে। ভারী বৃষ্টি আর পাহাড়ি কাদার স্রোত উদ্ধারকারীদের কাজকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে— বৃহস্পতিবারও চামোলিতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে।

চামোলির এই ঘটনাই নয়, বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরাখণ্ড। গত ৫ অগস্ট উত্তরকাশীতে একই ধরনের ঘটনায় আচমকা ক্ষীরগঙ্গা নদীতে হড়পা বান নামে। মুহূর্তে গ্রাস করে নেয় সুক্কি, ধরালী-সহ একাধিক গ্রাম। সরকারি হিসাবে সেই ঘটনায় অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছিল, এখনও অনেকে নিখোঁজ।

এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সোমবার রাতেই দেহরাদূন-সহ উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় প্রবল মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়। তাতেই মৃত্যু হয় আরও ১৫ জনের। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বহু মানুষ এখনও আটকে রয়েছেন, চলছে উদ্ধারকাজ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, চামোলির নন্দনগরে যাঁরা নিখোঁজ, তাঁদের খোঁজে সেনা, এনডিআরএফ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। তবে আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীরা বারবার সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা মানুষজনকে দ্রুত উদ্ধার করতে না পারলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, তাঁরা রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। বহু মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন স্কুল বা সরকারি ভবনে তৈরি অস্থায়ী ক্যাম্পে। খাবার, ওষুধ আর নিরাপদ আশ্রয়ের দাবি তুলেছেন তাঁরা।

উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল— দুই পাহাড়ি রাজ্যই এ মরসুমে বারবার প্রকৃতির রুদ্ররূপের শিকার হচ্ছে। একের পর এক মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হড়পা বান পাহাড়ি জীবনকে অচল করে দিয়েছে। প্রশাসন উদ্ধার ও ত্রাণে ব্যস্ত থাকলেও পাহাড়ি মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে— প্রতি বছর এই পুনরাবৃত্তি কবে থামবে?

চামোলির নন্দনগরের এই রাত যেন আবারও মনে করিয়ে দিল, পাহাড়ের কোলে বসবাসকারীরা কতটা নাজুক অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রকৃতির কাছে মানুষের শক্তি কতটাই বা ক্ষুদ্র— সেই সত্যিটাই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *