ভুয়ো চিকিৎসক রুখতে চার দফা কড়া পদক্ষেপ!
রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে ভুয়ো চিকিৎসকের প্রবেশ ঠেকাতে নতুন করে কড়া নির্দেশিকা জারি করল স্বাস্থ্য দফতর। কোনও চিকিৎসককে নিয়োগের আগে তাঁর রেজিস্ট্রেশন, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসা করার বৈধ অধিকার যাচাই করতে হবে। সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টে ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত মামলার পরেই এই পদক্ষেপ।
ভুয়ো চিকিৎসকদের চিহ্নিত করতে রাজ্য কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানতে চেয়েছিল হাই কোর্ট। সেই সূত্রেই স্বাস্থ্য ভবন সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল ও কর্তৃপক্ষগুলির কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করে মোট চার দফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, কোনও বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগের আগে তাঁর রেজিস্ট্রেশন যাচাই করতে হবে। ২০১৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কেউ নিজেকে চিকিৎসক হিসাবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে। এমন কোনও ঘটনা সামনে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
তৃতীয়ত, কোনও ব্যক্তির পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রেজিস্ট্রেশন বা চিকিৎসা করার অধিকার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি ও যোগ্যতা যাচাই করতে হবে।
চতুর্থত, অনুমোদন ছাড়া ভুয়ো পরিচয়ে চিকিৎসা করছেন এমন কাউকে চিহ্নিত করা গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ শুধু নিয়োগের সময় যাচাই নয়, চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার সময়ও নজরদারি রাখার উপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশিকায় রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিকর্তা স্বপন সরেনের স্বাক্ষর রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলিকে জনস্বার্থে নির্দেশগুলি মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ভুয়ো চিকিৎসক নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরেই রাজপুর-সোনারপুরের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত দুই চিকিৎসক, উত্তম মাইতি ও ইউনূস হাসানের বিরুদ্ধে ভুয়ো মেডিক্যাল নথি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তাঁদের দু’জনকেই বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের নথি সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে যাচাই করা হয়েছিল।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নিয়েও সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে। পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের পর কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
বেসরকারি হাসপাতালগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে সরকারি নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ভুয়ো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতালগুলিও সতর্ক রয়েছে। তবে মেডিক্যাল কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা নিয়েও আরও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
অন্য দিকে পশ্চিমবঙ্গ ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি কৌশিক চাকীও স্বাস্থ্য দফতরের আরও সক্রিয় পদক্ষেপ চান। তাঁর বক্তব্য, চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য একটাই—বৈধ নথি ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই না করে কোনও চিকিৎসককে রোগী দেখার সুযোগ না দেওয়া। তবে নির্দেশিকা কতটা কার্যকর ভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের সাফল্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।