ভিসা ফের চালু!
দীর্ঘ প্রায় দু’মাস বন্ধ থাকার পর আবার ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা পরিষেবা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। গত ডিসেম্বর থেকে সাময়িক ভাবে এই পরিষেবা বন্ধ ছিল। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ঢাকার এই সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাই কমিশন এবং আগরতলায় সহকারী হাই কমিশন থেকে আবার ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু হবে। শুধু ভিসা নয়, অন্যান্য কনস্যুলার পরিষেবাও পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কেন বন্ধ হয়েছিল ভিসা পরিষেবা?
২০২৪ সালের অগস্টে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর দেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সেই সময় ভারতেও প্রতিবাদ শুরু হয় এবং দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখা যায়।
এই উত্তেজনার আবহেই ২২ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয়দের জন্য ভিসা দেওয়া সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দেয় ঢাকা। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছিল দিল্লি ও আগরতলা— দু’টি জায়গা থেকেই।
ভারতও কড়াকড়ি করেছিল
এই সময় ভারতও বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা পরিষেবায় কঠোরতা আনে। চিকিৎসা ও সীমিত ‘ডবল-এন্ট্রি’ ছাড়া প্রায় সব ধরনের ভিসা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে এখন সেই পরিষেবাও ধীরে ধীরে চালু করার প্রস্তুতি চলছে বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
নতুন সরকারের পর নয়া বার্তা?
বাংলাদেশে প্রায় দেড় বছর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, তাঁর ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত মিলছে। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, এবং দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকও হয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও সম্প্রতি সম্পর্ক মেরামতের ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদিও ভিসা চালু নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবু বাস্তবে পরিষেবা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রস্তুতি অনেকটাই এগিয়েছে।
সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়— এটি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, বাণিজ্য, চিকিৎসা ও পর্যটনের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অনেকের মতে, এটি ভবিষ্যতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনাও হতে পারে।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই