‘তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করতে গিয়ে নিজেই ফ্রিজ় হয়ে যাবেন’, জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের

জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের! বিলবোর্ড মামলায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়েই বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক…

October 14, 2026
1 min read

জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি অভিষেকের!

বিলবোর্ড মামলায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর শেক্সপিয়র সরণি থানা থেকে বেরিয়েই বিজেপি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করতে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমার নিজেই ফ্রিজ় হয়ে যাবেন। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারির দাবিও তুলেছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।

বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেন অভিষেক। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বক্তব্যের মূল নিশানায় ছিল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন।

অভিষেকের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ শুধু জ্ঞানেশের পদত্যাগ চাইছে না, তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপও দাবি করছে। তাঁর কথায়, “জ্ঞানেশকে জেলে যেতেই হবে।” তবে এ বিষয়ে অভিষেকের বক্তব্যই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান; কোনও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

‘জ্ঞানেশ বিজেপির প্রাণভোমরা’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। বিজেপি ও জ্ঞানেশ কুমারের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জ্ঞানেশই বিজেপির ‘প্রাণভোমরা’। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ বিপাকে পড়লে বিজেপির নেতারাও সমস্যায় পড়বেন। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছে বিরোধী শিবির। পাশাপাশি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-ও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। মঙ্গলবার যন্তর মন্তরের গেট টপকে ভিতরে ঢোকার অভিযোগে সিজেপির দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারির নিন্দা করে আগেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন অভিষেক।

বুধবার ফের সেই প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীন দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করেন তিনি। অভিষেকের প্রশ্ন, দেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের অধিকার কি নেই? তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত সময়ে রাস্তায় তেরঙা নিয়ে প্রতিবাদ করলেও গ্রেফতারির মুখে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।

বিজেপিকে পাল্টা প্রশ্ন অভিষেকের

তৃণমূলকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, প্রতীক ও নাম নিয়ে পদক্ষেপ, পার্টি অফিস ভাঙা, বিলবোর্ড খুলে দেওয়া এবং নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের পরেও বিজেপি কেন তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে, তার জবাব দিতে হবে।

মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল এবং মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তকেও এ দিন কটাক্ষ করেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে মনোজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং সুব্রত কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ষষ্ঠ বার তলব, হাজিরা দিলেন না মহুয়া

অন্য দিকে, আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট সংক্রান্ত বিতর্কে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও বুধবার তলব করেছিল ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম থানা। তাঁকে ষষ্ঠ বার তলব করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে এ দিনও তিনি হাজিরা দেননি। সূত্রের খবর, দিল্লিতে কাজের ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পুলিশকে ইমেল করেছেন মহুয়া।

এক দিকে বিলবোর্ড মামলায় অভিষেকের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ, অন্য দিকে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তাঁর আক্রমণ— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *