‘ভিআইপি’ সাজতে লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি!
পহেলগাঁও হামলার পর দেশজুড়ে নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কারণ স্পষ্ট—অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেটের অবাধ ব্যবহার হয়তো জঙ্গিদের হাতে আরও সহজ করে দিয়েছে সন্ত্রাসের রাস্তা। এই আশঙ্কায় এবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে লাইসেন্স ছাড়া ওয়াকিটকি কেনাবেচার উপর। অনলাইনে বিক্রি বন্ধ করতে বলা হয়েছে ই-কমার্স সংস্থাগুলিকে। কেন্দ্রের এই কড়া মনোভাবের ফলে বিপাকে পড়তে পারেন বহু নেতা ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা।
ভিআইপি ভাবমূর্তি তৈরির নামে নিরাপত্তার ফাঁক
অনেক নেতাই সরকারি নিরাপত্তা পান না, তবু জনসমক্ষে নিজেদের ‘ভিআইপি’ হিসেবে তুলে ধরতে ওয়াকিটকিধারী ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগ করেন। ফলে সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভ্রান্ত হন। রাজ্যের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। কেউ কেউ তো ‘চিন্তা’ থেকেই ওয়াকিটকি নিয়ে ঘুরতেন। যেমন এক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বা এক সিপিএম নেতা—যাঁদের বাড়ি থেকে লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি উদ্ধার হয়েছিল। এমনকি বিহারের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অননুমোদিত ওয়াকিটকি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।
জঙ্গিদের সুবিধা কীভাবে বাড়ল?
মূল সমস্যা হল, লাইসেন্সবিহীন হ্যান্ডসেটের কারণে জঙ্গিরা সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করতে পারছে নজর এড়িয়ে। এমন যন্ত্রের অবাধ ব্যবহার যে কত বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি, তা পহেলগাঁও হামলায় স্পষ্ট হয়েছে। সূত্র বলছে, এই হামলার ছক কষতেই সম্ভবত ব্যবহার হয়েছিল এমন উচ্চক্ষমতার রেডিয়ো ডিভাইস।
প্রযুক্তিগত দিকটি কেমন?
সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য বা ফ্রিকোয়েন্সিতে মাত্র ৫০০ মিলিওয়াট শক্তির ওয়াকিটকি ব্যবহার করা যাবে, যার সীমা এক কিলোমিটার। এই নিয়ম দুর্গম, পাহাড়ি এলাকার জন্য কিছুটা শিথিল করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার অপব্যবহার শুরু হয়। অনুমোদিত মডেলের আদলে অনেক বেশি ক্ষমতার যন্ত্র বাজারে ছাড়া হয়, যা নিরাপত্তা এড়িয়ে অনেক দূরে বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এতে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কী ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার?
পহেলগাঁওর ঘটনার পর কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এমন অননুমোদিত যন্ত্র বিক্রি শুধু বেআইনি নয়, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও মারাত্মক হুমকি। কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযান চালিয়ে বেআইনি ওয়াকিটকি বাজেয়াপ্ত করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, যে সব সংস্থা লাইসেন্স ছাড়া কর্মীদের হাতে এই যন্ত্র তুলে দিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজও শুরু হয়েছে।
উপসংহার
সুরক্ষা ব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে ‘ভিআইপি’ ভাবমূর্তি তৈরির প্রবণতা শেষমেশ দেশকে কোন বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তা পহেলগাঁও হামলা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। কেন্দ্রের কড়া পদক্ষেপ হয়তো এই অপব্যবহারের রাশ টানবে, তবে ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে।
‘দেশি অস্ত্রেই জয়ের গল্প’ — ‘মন কি বাত’-এ মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য তুলে ধরা