ভারত-চিন: এলএসি থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া চলমান, সন্তোষ প্রকাশ করল দুই দেশ

ভারত-চিন ভারত ও চিনের মধ্যে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া যথেষ্ট অগ্রগতি দেখিয়েছে। দুই দেশই এই প্রক্রিয়ার সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং তাদের মধ্যে উত্তেজনা…

December 6, 2024
1 min read

ভারত-চিন

ভারত ও চিনের মধ্যে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) থেকে সেনা সরানোর প্রক্রিয়া যথেষ্ট অগ্রগতি দেখিয়েছে। দুই দেশই এই প্রক্রিয়ার সফলতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং তাদের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে উভয় পক্ষই খুশি। এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসাল্টেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন অন ইন্ডিয়া-চিন বর্ডার অ্যাফেয়ারস’ (ডব্লুএমসিসি) উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও আলোচনা বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

ডব্লুএমসিসি মূলত ভারত-চিন সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সবার মধ্যে শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে কাজ করে থাকে। এই বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে, পূর্ব লাদাখের এলএসি থেকে সেনা সরানোর বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই দেশই এই পদক্ষেপের ফলস্বরূপ সন্তুষ্ট। ২০২০ সালে গলওয়ান সংঘর্ষের পর, উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সেনা সরানোর এই প্রক্রিয়া সেই চেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে, রাশিয়ার কাজ়ানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক বৈঠকে পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একত্রিত সমঝোতার কথা বলেন। এর ফলস্বরূপ, পরবর্তীতে উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায় যে, ডেপসাং এবং ডেমচক এলাকায় সেনা ছাউনি ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং উভয় দেশের সেনারা সেই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে। এমনকি, দীপাবলির সময় দুই দেশের সেনারা একে অপরকে মিষ্টি বিনিময় করে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে।

বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং পূর্বের সংঘাতের শিক্ষাকে মাথায় রেখে, দুই পক্ষ নিয়মিতভাবে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য হল সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমিয়ে আনা। চলতি সপ্তাহে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সংসদে জানিয়ে ছিলেন যে, ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে, পূর্ব লাদাখের এলএসি বরাবর চিনা সেনার একতরফা আগমন এবং গলওয়ান সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ভারতও এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে এলএসি এলাকায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়ায়। তবে, ২০২৩ সালে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে এবং সেনা সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।

ডব্লুএমসিসির বৈঠকে ভারত ও চিনের বিশেষ প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে আরও আলোচনা করবেন এবং তারা একে অপরকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে। কাজ়ানে বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা অনুযায়ী, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সেনা সরানোর কার্যক্রমকে আরো একধাপ এগিয়ে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবেই ভারত-চিন সম্পর্কের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

ভারত ও চিনের মধ্যে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে, উভয় দেশ সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মাধ্যমে উভয় দেশই বিশ্বাস করছে যে, উত্তেজনা কমানোর এই পদক্ষেপ তাদের ভবিষ্যতের সম্পর্কের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *