ভারতে রক্তের ক্যানসার নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি: কোয়ার্টেমি থেরাপি দিয়ে সাফল্য আসবে!

রক্তের ক্যানসার নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা রক্তের ক্যানসার, বিশেষ করে ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া বা নন-হজকিন লিউকেমিয়া, যে ক্যানসারগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে আক্রান্ত করে, সেগুলির চিকিৎসায় নতুন আশার…

January 29, 2025
1 min read

রক্তের ক্যানসার নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা

রক্তের ক্যানসার, বিশেষ করে ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া বা নন-হজকিন লিউকেমিয়া, যে ক্যানসারগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে আক্রান্ত করে, সেগুলির চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন ভারতে নতুন একটি চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করা হচ্ছে যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী লড়াই চালাতে সক্ষম। এই পদ্ধতিটি হল ‘কোয়ার্টেমি’, যা একটি বিশেষ ধরনের ‘কার-টি সেল থেরাপি’।

কোয়ার্টেমি থেরাপি: কীভাবে কাজ করে?

কার-টি সেল থেরাপি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে অন্যতম সর্বাধিক উন্নত ও কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। তবে, কোয়ার্টেমি একটি নতুন ও বিশেষ ধরনের থেরাপি, যা রোগীর নিজের কোষ ব্যবহার করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর মধ্যে রয়েছে রোগীর শরীরের কোষ নিয়ে সেগুলিকে গবেষণাগারে পরিবর্তন করে শক্তিশালী করা, এবং সেই কোষগুলোকে শরীরে ফেরত দেওয়া, যাতে তারা ক্যানসারের কোষগুলিকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে রোগীকে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে। এই থেরাপি রক্তের ক্যানসারের বিরুদ্ধে বিশেষত কার্যকরী, কারণ এটি রোগীর নিজস্ব কোষের শক্তি ব্যবহার করে ক্যানসারকে পরাজিত করতে সাহায্য করে।

কোয়ার্টেমি থেরাপির বিশেষত্ব

এই থেরাপি রক্তের ক্যানসারের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে? চিকিৎসকরা বলেন, “কোয়ার্টেমি থেরাপির মাধ্যমে রোগীর শরীরের অস্থিমজ্জার কোষ থেকে টি-কোষ সংগ্রহ করা হয়। তারপর এই কোষগুলিকে শক্তিশালী করে তাদের নতুন ক্ষমতা দেওয়া হয়, যাতে তারা ক্যানসার কোষগুলিকে চিহ্নিত করতে এবং ধ্বংস করতে পারে। এরপর এই পরিবর্তিত কোষগুলো রোগীর শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ক্যানসারের বৃদ্ধি রোধ হয়।”

এই থেরাপি শুধুমাত্র ক্যানসারের কোষের ক্ষতি করতে সাহায্য করে না, বরং শরীরে ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাবনাও কমিয়ে দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৫ শতাংশ রোগী এই থেরাপি গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছে।

থেরাপির প্রয়োগে সাফল্য

কোয়ার্টেমি থেরাপি ভারতে বিভিন্ন হাসপাতালে প্রয়োগ করা হয়েছে, এবং এর সাফল্যও যথেষ্ট ভালো। বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতাল, চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো ক্যানসার হাসপাতাল এবং চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চে রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই থেরাপির প্রয়োগ হয়েছে। সেখানেও রোগীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ সাফল্য পাওয়া গেছে।

এটি কি নতুন পদ্ধতি?

এটি অত্যন্ত আধুনিক একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যেখানে রোগীকে তার নিজস্ব কোষ ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়, এটি কোষের পরিবর্তন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া জড়িত। সাধারণত ক্যানসারের চিকিৎসায় রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, কিন্তু কোয়ার্টেমি পদ্ধতিতে রোগী নিজে শরীরে তৈরি করা কোষ ব্যবহার করে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এর মাধ্যমে ক্যানসারের প্রভাব কমানো সম্ভব হয়েছে, যা অন্যান্য পদ্ধতির তুলনায় এক নতুন দিগন্ত।

খরচ কত?

কোয়ার্টেমি থেরাপির খরচ বেশ কিছুটা উচ্চমানের। এর খরচ ভারতে ৩৫ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে হতে পারে, যা বর্তমানে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য একটি ব্যাপক পরিমাণ অর্থ। তবে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে, এই খরচ পরবর্তীতে কমানো হতে পারে এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।

আমেরিকাতে, কার-টি সেল থেরাপির চিকিৎসার খরচ প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকার মধ্যে হতে পারে, তবে ভারতে এটি অনেকটাই কম এবং আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপসংহার

কোয়ার্টেমি থেরাপি রক্তের ক্যানসারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে। এই থেরাপির মাধ্যমে ক্যানসারের নিরাময় সম্ভব, এবং এটি সাধারণ মানুষের জন্য এক নতুন আশা জাগিয়েছে। যদিও এর খরচ বর্তমানে তুলনামূলকভাবে বেশি, তবে ভবিষ্যতে এটি কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসায় এই নতুন পদ্ধতি সম্ভবত ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হতে সাহায্য করবে, এবং এটি বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পথে এক নতুন সূচনা হতে পারে।

ত্রিবেণী সঙ্গম থেকে পুণ্যার্থীদের সরাতে কঠোর পদক্ষেপ, ঘোড়সওয়ার পুলিশ নামাল যোগী সরকার

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *