ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে ফের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারত আমেরিকার পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে, যার ফলে মার্কিন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হোয়াইট…

March 8, 2025
1 min read

আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্ক নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন। তাঁর অভিযোগ, ভারত আমেরিকার পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে, যার ফলে মার্কিন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে শুক্রবার তিনি বলেন, “আমি এসে ভারতের এত দিনের ‘কীর্তি’ ফাঁস করে দিয়েছি। এবার নয়াদিল্লি বাধ্য হবে শুল্ক কমাতে।”

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য ও শুল্কের প্রসঙ্গ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, ভারত মার্কিন পণ্যের উপর ১০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক ধার্য করে, যা অনেক ক্ষেত্রেই ২০০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছায়। এই কারণেই আমেরিকার পণ্য ভারতে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ট্রাম্প বলেন, “ভারত আমাদের থেকে বিপুল পরিমাণ কর নেয়। আমরা ভারতে কিছু বিক্রিই করতে পারি না। তবে এবার ওরা শুল্ক কমাতে বাধ্য হবে। কারণ, এতদিন ধরে ওরা যা করে এসেছে, সেটা আমি ফাঁস করে দিয়েছি।”

শুধু ভারত নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশও নিশানায়

শুধু ভারত নয়, শুল্ক নীতির প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং কানাডার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এই দেশগুলো আমেরিকার পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে উচ্চ হারে শুল্ক ধার্য করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর মোকাবিলায় ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপের পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, যে দেশ আমেরিকার পণ্যে বেশি শুল্ক আরোপ করবে, আমেরিকাও সেই দেশের পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক বসাবে। আগামী ২ এপ্রিল থেকেই এই নীতি কার্যকর হতে পারে, যার ফলে ভারতের উপরও বাড়তি শুল্ক চাপানো হতে পারে।

মোদী-ট্রাম্প বৈঠকের পরেও সমস্যা কাটেনি

নরেন্দ্র মোদী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে, যেখানে বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ ট্রাম্পের। মোদীর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, “ভারত যে পরিমাণ শুল্ক নেয়, তা অত্যন্ত অন্যায্য। আমি ওদের দোষ দিচ্ছি না, কিন্তু এভাবে বাণিজ্য চালানো কঠিন।”

ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য পরিস্থিতি

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারত-আমেরিকার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২ হাজার কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা)। এর মধ্যে আমেরিকা ভারতে ৪,১০০ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। তবে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৪,৫০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ ৯৮ হাজার কোটি টাকা) বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি শুল্ক কমাতে রাজি না হয়, তাহলে আমেরিকা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় নীতিনির্ধারকরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *