ভারতীয়রা উপোস করতে ব্যস্ত কেন
বর্তমান সময়ে, বিশেষত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে, ওজন কমানো এবং ফিটনেস বজায় রাখার জন্য ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণের কৌশলটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই পদ্ধতিতে, খাবারের সময়টুকু নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, আর বাকি সময়টা উপোসের মতো কাটানো হয়। বলিউডের তারকারা যেমন ক্যাটরিনা কাইফ, রণবীর কাপূর বা রাম কপূরও এই পদ্ধতিতে বিশ্বাসী, তেমনি সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যেও এই ট্রেন্ড ক্রমেই বাড়ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয়রা কেন উপোস করতে এত বেশি আগ্রহী? আসলেই কি ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি?
এই বিষয়ে বলিউডের ফিটনেস প্রশিক্ষক বিনোদ চান্না তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাঁর মতে, ভারতীয়দের মধ্যে উপোসের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা তাদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত। তিনি নিজের ব্লগে লিখেছেন যে, “উপোস এবং ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মূল ধারণা প্রায় একই রকম।” অর্থাৎ, যেখানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার গ্রহণের নিয়ম, সেখানে ভারতীয় উপোসের পদ্ধতিতেও একইভাবে খাবারের সময় সীমাবদ্ধ থাকে।
ভারতে বিভিন্ন ধর্ম এবং সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব নিয়মে উপোস পালন করেন। যেমন, শিবরাত্রির ব্রত পালন করা, রোজা রাখা—এই সবই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতো। বিনোদ চান্না বলছেন, “যেমন রোজা রাখার সময়, এক নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খেয়ে দিনভর উপোস রাখা হয়। সন্ধ্যায় বা রাতে পুজোর পর খাবার গ্রহণ করা হয়, যা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মতোই।” তিনি আরও বলেন, শিবরাত্রিতে অনেকে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত উপোস করেন, যা আবারও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নিয়মের মতো।
কীভাবে মিল খুঁজে পাওয়া যায়?
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে সাধারণত ১৬ ঘণ্টা বা ২০ ঘণ্টা উপোস রাখা হয়। বিশেষ করে, সপ্তাহে দু’দিন এই নিয়ম পালন করা হয়, যা ভারতীয়দের উপোসের প্রথার মতোই। বিনোদ চান্না বলছেন, “ভারতীয়রা উপোস করার জন্য বিশেষভাবে কিছু ভাবেন না, কারণ এটি তাদের সংস্কৃতির অংশ। তারা স্বাভাবিকভাবেই এই অভ্যাসে অভ্যস্ত।”
তবে, শুধু সংস্কৃতি বা ঐতিহ্য নয়, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের জনপ্রিয়তার পিছনে আরও কিছু কারণ রয়েছে, যা বিনোদ চান্না উল্লেখ করেছেন। তিনি বলছেন, প্রথমত, অনেকেই সহজপথ খোঁজেন। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নিয়ম শুনে তাদের মনে হয় যে এটি অনুসরণ করা বেশ সহজ। দ্বিতীয়ত, খাবার না খেয়ে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ, যা অনেকের কাছে আরও আকর্ষণীয় মনে হয়। আর তৃতীয়ত, উপোসের মাধ্যমে মেদ ঝরানো বা শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমানো, এমন বিশ্বাসও রয়েছে, যা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ হতে পারে।
তবে বিনোদ চান্না সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সময় সঠিক নিয়ম মেনে চলা উচিত। না হলে শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা দিতে পারে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি, নিয়ম মেনে না চললে মানসিক অবস্থাও প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়াও, কিছু শারীরিক সমস্যা বা রোগ থাকলে এই ফাস্টিংয়ের নিয়ম পালন করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজন আলাদা হতে পারে।
অতএব, ভারতীয়দের মধ্যে উপোসের প্রতি আগ্রহের একাধিক কারণ রয়েছে, তবে সঠিকভাবে পদ্ধতিটি অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।