ভারতকে টেক্কা দেওয়ার পরই ধাক্কা! কেন আচমকা ধসে পড়ল দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার?

ভারতকে টেক্কা দেওয়ার পরই ধাক্কা!! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জোরে গত কয়েক মাসে বিশ্বের অন্যতম সেরা পারফর্ম করা শেয়ারবাজারে পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। বাজারমূল্যের নিরিখে ভারতকেও পিছনে ফেলে…

July 1, 2026
1 min read

ভারতকে টেক্কা দেওয়ার পরই ধাক্কা!!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জোরে গত কয়েক মাসে বিশ্বের অন্যতম সেরা পারফর্ম করা শেয়ারবাজারে পরিণত হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। বাজারমূল্যের নিরিখে ভারতকেও পিছনে ফেলে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম শেয়ারবাজারের জায়গা দখল করেছিল দেশটি। কিন্তু সেই সাফল্যের মাঝেই আচমকা বড় ধাক্কা। এক দিনের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান শেয়ার সূচক কেওএসপিআই (KOSPI)-তে তীব্র পতন দেখা দেয়, বাজার থেকে মুছে যায় কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সমমূল্যের সম্পদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের নেপথ্যে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে দেশের দুই প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স এবং এসকে হাইনিক্স-এর শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির ফলে। এই দুই সংস্থাই দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের মেরুদণ্ড এবং কেওএসপিআই সূচকের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। ফলে তাদের শেয়ারের দাম ১২ শতাংশের বেশি কমতেই পুরো বাজারে তার প্রভাব পড়ে।

বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। কয়েক লক্ষ কোটি ওন মূল্যের শেয়ার বিক্রির জেরে বাজারে চাপ আরও বাড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, অতিরিক্ত ওঠানামা সামলাতে দক্ষিণ কোরিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জকে কিছু সময়ের জন্য লেনদেন স্থগিত রাখতে হয়।

এই বিক্রির অন্যতম কারণ ছিল লিভারেজড ইটিএফ (Leveraged ETF) নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সতর্কবার্তা। এই ধরনের তহবিল কোনও সূচকের দৈনিক ওঠানামাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকলে লাভ বেশি হলেও, পতনের সময় ক্ষতির পরিমাণও বহুগুণ বেড়ে যায়। নিয়ন্ত্রকদের আশঙ্কা ছিল, অনেক ছোট বিনিয়োগকারী ঝুঁকি পুরোপুরি না বুঝেই এই পণ্যে অর্থ লগ্নি করছেন। সতর্কবার্তার পরেই আতঙ্কে বহু বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি শুরু করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক মাসে এআই ও চিপ শিল্প নিয়ে প্রবল আশাবাদের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম অত্যন্ত দ্রুত বেড়েছিল। ফলে সাম্প্রতিক পতনকে অনেকেই বাজারের স্বাভাবিক ‘করেকশন’ বা মূল্য সংশোধন হিসেবেও দেখছেন। দীর্ঘ সময়ের ঊর্ধ্বগতির পর কিছুটা মূল্যসংশোধন বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করে বলেও মত তাঁদের।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং তেলের দাম বৃদ্ধির সময়ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। কারণ, বিশ্বজুড়ে এআই ও সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা বাড়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও জাপানের প্রযুক্তি খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন। সেই কারণেই ভারত-সহ একাধিক বাজার থেকে পুঁজি সরে গিয়ে এই দেশগুলিতে প্রবাহিত হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক ধস দেখিয়ে দিল, প্রযুক্তিনির্ভর বাজারে অতিরিক্ত মূল্যায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের প্রভাব কতটা দ্রুত সামনে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি শিল্পের ভিত্তি এখনও শক্তিশালী হলেও, স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *