ব্রহ্মস থেকে স্কাইস্ট্রাইকার: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতীয় অস্ত্রের কদর

‘অপারেশন সিঁদুর’! ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় মারণাস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। পাকিস্তানের সঙ্গে সীমানা সংঘর্ষে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রগুলোর দুরন্ত পারফরম্যান্স শুধু লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়েছে নয়,…

May 15, 2025
1 min read

‘অপারেশন সিঁদুর’!

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় মারণাস্ত্রগুলোর কার্যকারিতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। পাকিস্তানের সঙ্গে সীমানা সংঘর্ষে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্রগুলোর দুরন্ত পারফরম্যান্স শুধু লড়াইয়ের মোড় ঘুরিয়েছে নয়, বিশ্ব অস্ত্রবাজারে ভারতের অবস্থানকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। এক সময় যেসব অস্ত্র নিয়ে বাইরের দেশ খুব একটা আগ্রহ দেখাত না, আজ সেগুলোর খোঁজে একাধিক দেশের দরজায় কড়া নাড়ছে ভারত।

স্বাধীনতার পর বহু বছর ধরে ভারত ছিল অস্ত্র আমদানিকারী দেশ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়। তবে এতদিন পর্যন্ত বড় কোনো যুদ্ধে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলোর কদর কম ছিল। কিন্তু ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় অস্ত্রের সাফল্য সেই ধারণা বদলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের মাটিতে তৈরি একাধিক অস্ত্র এবার আন্তর্জাতিক অস্ত্রবাজারে হটকেকের মতো বিকোতে পারে। যেমন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘আকাশ’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পাকিস্তানের ড্রোন ও যুদ্ধবিমান রুখতে দারুণভাবে কাজ করেছে। এই সাফল্যের পর আর্মেনিয়া, ফিলিপিন্স, মিশর, ব্রাজিল সহ একাধিক দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে এই ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে। স্বল্প ব্যয়ে উচ্চ কার্যক্ষমতা—এই দুইয়ের মিশেলে ‘আকাশ’ হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।

এর পাশাপাশি ডিআরডিও ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড তৈরি করেছে ডি-ফোর, এক ‘ড্রোন-কিলার’ অস্ত্র যা শত্রুর জিপিএস ও রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি জ্যাম করে মাঝ-আকাশেই ড্রোন ধ্বংস করতে পারে। এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা দেখে আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার কিছু দেশও আগ্রহ দেখাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত অস্ত্রগুলোর একটি হলো আত্মঘাতী ড্রোন ‘স্কাইস্ট্রাইকার’। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিতে এই ড্রোন ব্যবহার করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। চীনের তৈরি পাক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একে শনাক্ত করতেই ব্যর্থ হয়েছে। এর নির্মাতা আদানি গোষ্ঠীর আলফা ডিজ়াইন ও ইজ়রায়েলি সংস্থা এলবিট সিকিউরিটিজের যৌথ উদ্যোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের অস্ত্র রফতানির সেরা তালিকায় থাকবে ‘স্কাইস্ট্রাইকার’-এর নাম।

অস্ত্রবাজারে ভারতীয় হাতিয়ারগুলোর মধ্যেও এক বিশাল জায়গা করে নিচ্ছে ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। পাকিস্তানের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হামলায় ব্যবহৃত এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া ও ভারতের ডিআরডিও-র যৌথ উদ্যোগে তৈরি। বর্তমানে স্থল, জল ও আকাশ—তিন মাধ্যমেই এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে ভারতীয় সেনা। ইতিমধ্যেই ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক অস্ত্রই যেহেতু যৌথভাবে তৈরি, সেগুলো রফতানির আগে বিদেশি অংশীদারের অনুমতি প্রয়োজন—যা কখনও কখনও বাণিজ্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পাকিস্তানি ভাইবোনদের উদ্দেশে রণবীরের পোস্ট কেন মুছলেন? বিতর্কের মধ্যে সাফাই দিলেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *