ট্রাম্প

বৈঠকের আগেই যুদ্ধের বার্তা? ট্রাম্প–জ়েলেনস্কি সাক্ষাৎ চূড়ান্ত হতেই ইউক্রেনে তীব্র হামলা রাশিয়ার

ট্রাম্প–জ়েলেনস্কি সাক্ষাৎ চূড়ান্ত হতেই ইউক্রেনে তীব্র হামলা রাশিয়ার! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy–এর বহুল আলোচিত বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে দিল রাশিয়া। শনিবার…

December 27, 2025
1 min read

ট্রাম্প–জ়েলেনস্কি সাক্ষাৎ চূড়ান্ত হতেই ইউক্রেনে তীব্র হামলা রাশিয়ার!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy–এর বহুল আলোচিত বৈঠক চূড়ান্ত হওয়ার ঠিক মুহূর্তেই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে দিল রাশিয়া। শনিবার ভোর থেকে ইউক্রেনের একাধিক শহরে শুরু হয়েছে লাগাতার গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, রাজধানী কিভকে লক্ষ্য করে ‘বড় মাপের’ হামলা চালিয়েছে রুশ সেনা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউক্রেন জুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে।

২০২২ সাল থেকে চলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে শনিবারের হামলাকে সাম্প্রতিক কালের অন্যতম ভয়াবহ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। কিভে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। আকাশে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে। শহরের মেয়র সমাজমাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করে আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই হামলার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ, শুক্রবারই জ়েলেনস্কি ঘোষণা করেছিলেন যে রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ফ্লরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে চলেছে। যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েই এই সাক্ষাৎ—এমনটাই জানানো হয়েছিল কিভের তরফে। প্রাথমিক ভাবে ২০ দফা একটি শান্তি-পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েই সংশয় রয়েছে।

ইউক্রেনের বায়ুসেনা জানিয়েছে, গোটা দেশের আকাশপথে শত্রু ড্রোনের আনাগোনা চলছে। যে কোনও মুহূর্তে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে। এর জেরে বিমান চলাচলও মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর তরফে এই হামলা কি শুধুই সামরিক কৌশল, না কি এর মধ্যে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক বার্তা—তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্প–জ়েলেনস্কি বৈঠকের আগে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে পুতিন স্পষ্ট করে দিতে চাইছেন যে, যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার অবস্থান এখনও অটল। অর্থাৎ, শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার আগে মস্কো তার শর্তে কথা বলতে চায়।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক বার ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেছেন। জ়েলেনস্কি এবং পুতিন—দু’জনের সঙ্গেই আলাদা আলাদা ভাবে বৈঠক করেছেন তিনি। কিন্তু সেই উদ্যোগে এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান আসেনি। ফলে মাঝেমধ্যেই এমন তীব্র হামলা ও পাল্টা হামলায় নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

এখন নজর রবিবারের বৈঠকের দিকে। যুদ্ধের এই নতুন ঝাঁজের মাঝেই ট্রাম্প ও জ়েলেনস্কির আলোচনায় আদৌ কোনও আশার আলো দেখা যাবে কি না—সেটাই দেখার। তবে বৈঠকের ঠিক আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার এই হামলা শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলল বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *