বাজেয়াপ্তির মুখে মিমি-অঙ্কুশের সম্পত্তি!
বেআইনি অনলাইন বেটিং অ্যাপ সংক্রান্ত মামলায় ফের চাঞ্চল্য ছড়াল বিনোদন দুনিয়ায়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই মামলায় অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা এবং অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে যুক্ত বহু কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু এই দু’জনই নন, মামলার আওতায় এসেছেন প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহ-সহ আরও একাধিক পরিচিত মুখ। ইডি সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ১৯ কোটিরও বেশি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন অঙ্কুশ হাজরা। তখন থেকেই গুঞ্জন শুরু হয় টলিউডে। সেই জল্পনাই এ বার বাস্তব রূপ নিল বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত তারকারা বেআইনি বেটিং এবং জুয়ার অ্যাপগুলির প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রচারের বিনিময়ে তাঁরা আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলেও অভিযোগ। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ ভাবে আয় করা হয়েছে এবং সেই টাকা বিভিন্ন পথে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে বলে সন্দেহ ইডির।
খবর প্রকাশ্যে আসতেই অঙ্কুশ হাজরার প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হয়। আনন্দবাজার ডট কমকে অভিনেতা সংক্ষেপে জানান, “এই বিষয়ে আমি কোনও মন্তব্য করতে পারব না। বিষয়টি পুরোপুরি আমার আইনজীবী দেখছেন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, আপাতত আইনি পথেই বিষয়টির মোকাবিলা করতে চাইছেন তিনি। অন্য দিকে, মিমি চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া জানার জন্য বার বার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। মেসেজ পাঠানো হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে কোনও উত্তর আসেনি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় প্রায় এক মাস আগেই মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই তালিকায় ছিলেন একাধিক অভিনেতা, ক্রীড়াবিদ এবং সমাজমাধ্যমে জনপ্রিয় নেটপ্রভাবীরা। দক্ষিণী চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ থেকে শুরু করে টেলিভিশন ও কমেডি দুনিয়ার তারকারাও রয়েছেন সেই তালিকায়। টলিউড থেকে প্রথম সারির কোনও তারকার নাম আগে প্রকাশ্যে না এলেও, এ বার অঙ্কুশ ও মিমির নাম জড়ানোয় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুজোর আগেই মিমি এবং অঙ্কুশ— দু’জনকেই ইডি অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল। নির্দেশ মেনে তাঁরা হাজিরাও দেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদ থেকেই একাধিক আর্থিক লেনদেনের সূত্র পাওয়া গিয়েছে বলে ইডি সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের মতে, বেআইনি বেটিং অ্যাপগুলি থেকে প্রাপ্ত অর্থ হাওয়ালার মতো অবৈধ পথে ঘোরানো হয়েছে, যাতে নজর এড়ানো যায়।
এই ঘটনায় টলিউডে স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তি বেড়েছে। তারকাদের সমাজমাধ্যমে প্রচারের প্রভাব যে কতটা গভীর, তা নতুন করে সামনে এসেছে। সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, তারকাদের প্রচারে প্রভাবিত হয়ে বহু মানুষ কি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েননি? আবার অন্য দিকে, অভিযুক্ত তারকাদের অনুরাগীদের একাংশের দাবি, চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়।
তদন্ত এখনও চলছে। ইডি জানিয়েছে, বেটিং অ্যাপগুলির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক নেটওয়ার্ক, সম্পত্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও নাম প্রকাশ্যে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। আপাতত এই মামলার দিকে নজর টলিউড থেকে শুরু করে গোটা দেশের বিনোদন মহলের।