বৃদ্ধ ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! সরকারি টাকার কেলেঙ্কারিতে তদন্তে কলকাতা পুলিশ

বৃদ্ধ ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার! রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন—বৃদ্ধ ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা পেনশন, কন্যাশ্রী—এই সব প্রকল্প যে রাজ্যের গরিব ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে…

July 21, 2025
1 min read

বৃদ্ধ ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার!

রাজ্যের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন—বৃদ্ধ ভাতা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বিধবা পেনশন, কন্যাশ্রী—এই সব প্রকল্প যে রাজ্যের গরিব ও প্রান্তিক মানুষের কাছে আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই আশীর্বাদকেই যেন অভিশাপে পরিণত করতে উঠেপড়ে লেগেছে এক চক্র। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা ও পুলিশের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এই প্রকল্পগুলির নাম করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত চক্র।

তদন্তকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্র কলকাতা ও তার আশেপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ছড়িয়ে রয়েছে। মূলত দরিদ্র, কম শিক্ষিত মানুষদের টার্গেট করে এরা নকল কাগজপত্র বানিয়ে তাঁদের নামে ভাতা পাশ করিয়ে নিত। অনেক ক্ষেত্রেই যাঁদের নামে টাকা উঠেছে, তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে তাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বহু মানুষ অভিযোগ করছেন—তাঁরা প্রকৃত উপভোক্তা হলেও মাসের পর মাস ভাতা পাচ্ছেন না। এসবই প্রশাসনের নজরে আসে যখন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা কিছু অসঙ্গতির প্রমাণ পান।

প্রথমে পুরসভা নিজের স্তরে তদন্ত শুরু করে। পরে বিষয়টি এতটাই বড় আকার নেয় যে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, তারা ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হদিশ পেয়েছে। সূত্র বলছে, এই চক্রে শুধুই দালাল নয়, কিছু নিম্নস্তরের সরকারি কর্মচারীও জড়িয়ে থাকতে পারে। এমনকি, একাধিক বেসরকারি সাইবার ক্যাফে ও এজেন্টেরও নাম উঠে এসেছে যাঁরা এই ভুয়ো কাগজপত্র তৈরির কাজে যুক্ত।

কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “সরকারি টাকায় যারা হাত দেয়, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। যারা প্রকৃত উপভোক্তা, তাঁরা যেন সময়মতো ভাতা পান, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। কেউ যদি ভুয়ো ভাবে ভাতা তোলে, সে যেই হোক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনেরও কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ, এই ধরণের দুর্নীতি শুধু টাকা নয়, মানুষের ভরসাকেও চুরমার করে দেয়। রাজ্য সরকার যেখানে প্রকল্পগুলিকে আরও বেশি মানুষ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাইছে, সেখানে এই ধরনের অপরাধ তার গতি ব্যাহত করতে পারে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে নজরে রাখা হয়েছে এবং কিছু তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সব ওয়ার্ডে উপভোক্তাদের তথ্য ফের যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও একপ্রকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—“আমার নামে টাকা উঠছে তো?” “আমি তো ক’মাস ধরে কিছুই পাইনি, তাহলে কি কেউ আমার নাম ব্যবহার করছে?”

সব মিলিয়ে, শহরের বুকে এক নতুন ধরনের কেলেঙ্কারির মুখোমুখি প্রশাসন। তবে আশার কথা, এবার কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ একজোট হয়ে নেমেছে তদন্তে। তারা জানিয়ে দিয়েছে—অপরাধী যেই হোক, তাকে খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতেই হবে।

রান্নাঘরের ধোঁয়ার গন্ধ যাচ্ছে না? ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন এই অসুবিধা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *