বিহারে চাকরিপ্রার্থীদের রাস্তায় ফেলে পুলিশের মারধর
বিহারে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি) পরীক্ষায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগে চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পটনা শহর। রবিবার রাতে, রাজ্যের হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী পটনার গান্ধী ময়দানে জমায়েত হয়ে পরীক্ষার পুনরায় আয়োজনের দাবিতে মিছিল শুরু করেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিহারের জন সুরাজ পার্টির (JSP) নেতা প্রশান্ত কিশোর (পিকে)। তবে, পুলিশের দাবি, পিকে তাদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আন্দোলনকে উস্কে দিয়েছেন এবং এর ফলস্বরূপ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের লাঠিচার্জ এবং পরিস্থিতির অবনতির কারণ
বিহার পুলিশ জানিয়েছে যে, শনিবারই পিকে পুলিশ থেকে অনুমতি চেয়েছিলেন গান্ধী ময়দানে জমায়েত করার জন্য, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হয়েছিল। তারপরেও রবিবার রাতে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থী সেখানে একত্রিত হন। প্রতিবাদীরা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে এগোতে থাকলে পুলিশ তাদের থামাতে জলকামান ব্যবহার করে। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং অভিযোগ উঠেছে, চাকরিপ্রার্থীদের রাস্তায় ফেলে মারধরও করা হয়েছে।
পিকের উস্কানি এবং মামলা
পুলিশের অভিযোগ, পিকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি সমর্থন করে এবং জনগণকে উত্তেজিত করার জন্য উস্কানি দিয়েছেন। এই কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টি করার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, পিকে-সহ মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং ৬০০-র বেশি বিক্ষোভকারীকে অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যদিও তাঁদের সঠিক পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলন এবং পিকের আক্রমণ
বিপিএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর থেকে বিহারে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল। চাকরিপ্রার্থীদের দাবি ছিল, ৭০তম বিপিএসসি পরীক্ষাটি বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পিকে বার বার মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিহারের চাকরির পরীক্ষাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে কারচুপি চলছে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নিজে কখনও তার সমাধান দিতে এগিয়ে আসেননি।
সরকারের বিরোধিতা এবং সমর্থন
এই আন্দোলন শুধু চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে নয়, বিহারের অনেক শিক্ষাবিদ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও সমর্থন পেয়েছে। পিকে এবং বিরোধী নেতারা একযোগে রাজ্যের মধ্যে চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনকে অস্থিতিশীলতার উস্কানি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিহারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এটি বিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে একটি নতুন মোড়। যেখানে বিরোধী দলগুলি রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে চাকরির পরীক্ষায় স্বচ্ছতা এবং সুবিচারের দাবি জানিয়েছে। এই বিক্ষোভের ফলে রাজ্যের মধ্যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।
উপসংহার
বিহারে চাকরিপ্রার্থীদের উপর পুলিশি হামলা এবং প্রশান্ত কিশোরের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ, রাজ্যের শাসক দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি এখন শুধুমাত্র বিহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব গোটা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিত্রে পড়ছে। তবে, চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং আন্দোলনের ধারাবাহিকতা আরও জোরালো হতে পারে, যদি তাদের দাবির প্রতি সরকার কোনও উপযুক্ত পদক্ষেপ না নেয়।