১৫ জুলাইকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ ঘোষণা আর্জেন্টিনার!
বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা মানেই আবেগ, ইতিহাস আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই। সেই আবেগকেই আরও একবার সামনে এনে ১৫ জুলাইকে ‘জাতীয় ফুটবল দল দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। অবাক করার বিষয়, বিশ্বকাপ জয়ের কোনও দিন নয়, বরং ইংল্যান্ডকে হারানোর একটি ঐতিহাসিক দিনকেই বেছে নেওয়া হয়েছে এই বিশেষ স্বীকৃতির জন্য।
আর্জেন্টিনা এখনও পর্যন্ত তিন বার বিশ্বকাপ জিতেছে। তবুও বিশ্বজয়ের দিনগুলির কোনওটিকেই জাতীয় ফুটবল দল দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। পরিবর্তে ১৫ জুলাইকে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্মরণীয় সেমিফাইনাল জয়। সেই ম্যাচে এক গোল পিছিয়ে থেকেও লিয়োনেল মেসির নেতৃত্বে ২-১ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। এএফএ মনে করছে, সেই জয় শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় আবেগেরও প্রতীক।
তবে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও গভীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর মাঠেই আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন, যেখানে লেখা ছিল— ‘ফকল্যান্ড আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার দাবি অনুযায়ী মালভিনাস) নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক বিরোধের প্রতীক হিসেবেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ফলে ১৫ জুলাইয়ের উদ্যাপন শুধুমাত্র একটি ফুটবল ম্যাচের স্মৃতি নয়, বরং জাতীয় পরিচয় ও ঐতিহাসিক দাবিরও প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসও কম নাটকীয় নয়। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের দ্বৈরথ আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ। সেই ম্যাচেই দিয়েগো মারাদোনা করেছিলেন বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরক্ষণেই করেছিলেন ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে পরিচিত একক প্রচেষ্টার গোল। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপও জিতেছিল।
এরপরও বহুবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দেশ। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আবার ২০০২ সালে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে প্রতিশোধ নেয় ইংল্যান্ড। তাই দুই দেশের লড়াই কখনও শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; ইতিহাস, রাজনীতি এবং জাতীয় আবেগও বারবার জায়গা করে নিয়েছে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এএফএ-র এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, আর্জেন্টিনার কাছে ১৫ জুলাই শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়। এটি এমন এক দিন, যা দেশের ফুটবল ইতিহাস, জাতীয় গর্ব এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক হয়ে থাকবে। আগামী বছরগুলোতে দিনটি কীভাবে উদ্যাপিত হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল বিশ্বের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।