বিশ্বকাপ হারেও মেসির পাশে আর্জেন্টিনা!
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় রাজধানী বুয়েনোস আইরেসের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করতে হয়। তবে এই হতাশার মধ্যেও দেশের ফুটবলপ্রেমীরা একবাক্যে জানিয়ে দিয়েছেন— লিয়োনেল মেসিই তাঁদের কাছে সর্বকালের সেরা।
জয়ের অপেক্ষা থেকে হতাশার বিস্ফোরণ
ফাইনাল শুরুর অনেক আগে থেকেই হাজার হাজার সমর্থক রাজধানীর ঐতিহাসিক ওবেলিস্ক চত্বরে জড়ো হয়েছিলেন। আর্জেন্টিনা বড় কোনও আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতলে এই জায়গাতেই উদ্যাপন করার দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পরও লক্ষাধিক মানুষ এই চত্বরে উৎসব করেছিলেন।
কিন্তু এ বার চিত্রটা সম্পূর্ণ উল্টো। স্পেনের কাছে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর অনেক সমর্থকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কয়েকটি জায়গায় হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশি হস্তক্ষেপ
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বোতল, পাথর ও অন্যান্য বস্তু ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে সতর্কবার্তা দেয়। পরে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করা হয়। ঘটনায় অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
মেসির বিরুদ্ধে নয়, পাশে সমর্থকেরা
পরাজয়ের হতাশা থাকলেও সমর্থকদের অধিকাংশই লিয়োনেল মেসিকে কোনওভাবেই দায়ী করতে নারাজ। তাঁদের মতে, ৩৯ বছর বয়সেও মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সই আর্জেন্টিনাকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।
বুয়েনোস আইরেসের ২০ বছরের ছাত্র লুসিয়ানো ওরতেগা বলেন,
“ফাইনালে পৌঁছনোটাও বিশাল অর্জন। এই দল আমাদের গর্বিত করেছে।”
অনেক সমর্থক পরাজয়ের পরও জাতীয় পতাকা হাতে মেসির নামে স্লোগান দেন। কেউ কেউ বাজিও ফাটান, যাতে ফুটবলারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়।
রোজারিয়োতেও একই আবেগ
রাজধানী থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে মেসির জন্মশহর রোজারিয়োতেও তাঁর মূর্তির সামনে অসংখ্য সমর্থক জড়ো হন। সেখানে শোকের বদলে কৃতজ্ঞতার আবহই বেশি ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা সের্জিয়ো ইরাজাবাল বলেন,
“আমরা ইতিমধ্যেই একটি বিশ্বকাপ জিতেছি। এখন কান্নার সময় নয়। মেসি আমাদের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।”
সামনে কী?
বিশ্বকাপ ফাইনালের এই হার মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট— ফল যাই হোক, তাঁদের কাছে লিয়োনেল মেসির মর্যাদা এতটুকুও কমেনি। বরং পরাজয়ের দিনেও তাঁকে ঘিরে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাই সবচেয়ে বড় বার্তা হয়ে উঠেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?