বিশ্বকাপে কি হারাবে ব্রাজিলের সাম্বা গ্যালারি!
বিশ্বকাপ মানেই শুধু মাঠের লড়াই নয়—গ্যালারির রঙ, গান, ঢোল আর উন্মাদনাও সমান আকর্ষণের। আর সেই উন্মাদনার সবচেয়ে বড় প্রতীক ব্রাজিলের সমর্থকেরা। হলুদ-সবুজ জার্সিতে সাম্বার তালে নাচতে নাচতে গ্যালারি মাতানো সেই দৃশ্যই বিশ্বকাপকে করে তোলে আলাদা। কিন্তু আসন্ন বিশ্বকাপে কি আর সেই চেনা ব্রাজিলীয় সমর্থকদের দেখা যাবে?
এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। কারণ, আমেরিকার নতুন অভিবাসী ভিসা নীতি বড় ধাক্কা দিতে পারে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে।
সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ দফতর ঘোষণা করেছে, প্রায় ৭৫টি দেশের নাগরিকের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই দেশগুলির নাগরিকেরা মার্কিন নাগরিকদের জনকল্যাণমূলক সুযোগে “অন্যায্য ভাবে ভাগ বসান”। যত দিন না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে যে নতুন অভিবাসীরা মার্কিন সম্পদের উপর বোঝা হবেন না, তত দিন এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
সমস্যা হল, এই তালিকায় রয়েছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী একাধিক দেশের নাম—ইরান, মিশর, আলজেরিয়া, আইভোরি কোস্ট, উজবেকিস্তান, উরুগুয়ে, ব্রাজিল, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, ঘানা, হাইতি, জর্ডন, মরক্কো, সেনেগাল এবং তিউনিশিয়া। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা।
এর ফলে শুধু খেলোয়াড় নয়, সমর্থকদের যাতায়াত নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশ্বকাপের টিকিট হাতে থাকলেও, আমেরিকার ভিসা না-পেলে গ্যালারিতে বসে প্রিয় দলকে দেখা সম্ভব হবে না। ব্রাজিলের সমর্থকদের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলির রঙিন, গানের তালে মাতানো গ্যালারিও হয়তো হারিয়ে যেতে পারে এই বিশ্বকাপে।
বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপও ফুটবলপ্রেমীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা অনেকের চোখে আমেরিকাকে “অনিরাপদ” করে তুলেছে। ফলে আগেভাগে বুক করা বিশ্বকাপের টিকিট বাতিল করছেন বহু দর্শক।
জর্ডনের এক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১৬ হাজার ৮০০-র বেশি ফুটবলপ্রেমী তাঁদের টিকিট বুকিং বাতিল করেছেন। এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কেউ কেউ আবার আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ডাকও দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে সেই আহ্বান ছড়িয়ে পড়ছে দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার ফুটবলভক্তদের মধ্যে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ফিফাও। দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় জরুরি বৈঠক ডেকেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেখানে বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি এবং শীর্ষ কর্তারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ শুধু ২২ জন ফুটবলারের লড়াই নয়। গ্যালারির উন্মাদনা, সমর্থকদের গান-নাচ, পতাকার ঢেউ—এই সব মিলিয়েই তৈরি হয় বিশ্বকাপের আসল আবহ। কিন্তু যদি ব্রাজিলের সাম্বা, আফ্রিকার ঢোল কিংবা লাতিন আমেরিকার রঙিন উল্লাস না থাকে, তবে কি সেই বিশ্বকাপ আগের মতোই প্রাণবন্ত থাকবে?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন গোটা ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে আছে আমেরিকার ভিসা নীতি আর ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা