বিশ্বকাপের আগেই নতুন বিতর্ক!!
ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র দু’দিন বাকি। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমর্থকেরা ইতিমধ্যেই আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডায় পৌঁছে গিয়েছেন নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর মুখে আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বিশ্বকাপ। এবার ফিফার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের দাবি, তাদের সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত টিকিট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে হাজার হাজার ইরানি সমর্থক স্টেডিয়ামে বসে নিজের দেশের খেলা দেখার সুযোগ হারাতে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাধারণত বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দুই দেশের সমর্থকদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট সংরক্ষিত থাকে। উদ্দেশ্য একটাই— উভয় দলের সমর্থকেরা যেন মাঠে উপস্থিত থেকে নিজেদের দলকে উৎসাহ দিতে পারেন। কিন্তু ইরানের অভিযোগ, সেই নিয়ম মেনেও তাদের জন্য বরাদ্দ টিকিট শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, বহু সমর্থক ইতিমধ্যেই মেক্সিকো এবং আমেরিকায় পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু টিকিট বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা স্টেডিয়ামে ঢুকতেই পারবেন না। সংস্থার অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর ফলে বিশ্বকাপের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
টিকিট বিতর্কই অবশ্য একমাত্র সমস্যা নয়। বিশ্বকাপকে ঘিরে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ভিসা এবং যাতায়াত সংক্রান্ত নানা বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে।
ইরানের দাবি, তাদের দল ও সাপোর্ট স্টাফদের ভিসা পেতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখনও অনেক কর্মকর্তা ও ব্যাকরুম স্টাফ প্রয়োজনীয় অনুমতি পাননি। এর পাশাপাশি আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, যে শহরে ম্যাচ হবে সেখানে গিয়ে খেলা শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দলকে দেশ ছাড়তে হবে।
অর্থাৎ, ইরানের ফুটবলাররা আমেরিকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে পারবেন না। ম্যাচের দিন বা তার কাছাকাছি সময়ে পৌঁছে খেলা শেষ করেই আবার মেক্সিকোয় ফিরে যেতে হবে। গ্রুপ পর্বে লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে ম্যাচ খেলবে ইরান, তবে তাদের মূল ঘাঁটি থাকবে মেক্সিকোতেই।
এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও। ইরানের রাষ্ট্রদূত আবোলফাজ়ি পাসানদিদেহ জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাদের উপর এই বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এতে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও মানসিক অবস্থার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে আমেরিকার প্রশাসনের বক্তব্য, নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদেরই ভিসা দেওয়া হবে বলে তারা স্পষ্ট করেছে।
বিশ্বকাপের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে এমন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতা নতুন নয়। তবে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক আগে টিকিট বাতিল, ভিসা সমস্যা এবং যাতায়াতের বিধিনিষেধ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা ইরান শিবিরের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, মাঠের লড়াই শুরুর আগে এই অচলাবস্থার কোনও সমাধান হয় কি না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?